বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন পেলেন মানসুরা আক্তার, ছাত্রদলের সহসভাপতি
বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন পেলেন মানসুরা আক্তার

বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন পেলেন মানসুরা আক্তার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। মনোনয়নের তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি মানসুরা আক্তার। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

মানসুরা আকতারার ব্যক্তিগত ও শিক্ষাগত পরিচয়

মানসুরা আক্তার নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের জামুদ গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহজাহানের মেয়ে। বর্তমানে তাদের পরিবার পূর্বধলা সদরে বসবাস করছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের ২০১২–১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ছাত্রদলে দায়িত্ব ও রাজনৈতিক সক্রিয়তা

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মানসুরা আক্তার বর্তমানে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হামলা ও মামলার শিকার হওয়ার ঘটনা

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি একাধিকবার হামলা ও মামলার শিকার হন বলে দলীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২২ সালের মে মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের একটি মিছিলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। এতে তার হাত ভেঙে যায় এবং পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় তিনি ছাত্রলীগের ৩৩ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন।

এ ছাড়া ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসেও রাজধানীতে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন মানসুরা আক্তার। ওই ঘটনায় ছাত্রদলের আরও কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মনোনয়নের পর এলাকায় উচ্ছ্বাস

মনোনয়ন ঘোষণার পর নেত্রকোনা জেলা ও পূর্বধলা উপজেলায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তার নিজ এলাকা ধলামূলগাঁও ইউনিয়নসহ বিভিন্ন স্থানে সমর্থকেরা মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ-উৎসব করেন।

মানসুরা আকতারার প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়ায় মানসুরা আক্তার জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি এই অর্জনকে রাজপথের আন্দোলনে সম্পৃক্ত সব ছাত্রকর্মীর সম্মিলিত সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতেও দেশ ও জনগণের সেবায় কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা একজন নেত্রীকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেওয়া বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় প্রজন্মগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। একই সঙ্গে এটি তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই মনোনয়ন বিএনপির অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি দলের তরুণ ও নারী নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার একটি পদক্ষেপ।