ছাত্রশিবির নেতাদের পায়ে গুলি মামলায় বিচার শুরু, আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যশোরের চৌগাছা উপজেলায় ছাত্রশিবিরের দুই নেতার পায়ে গুলির ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানসহ আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
আসামিদের অব্যাহতি আবেদন খারিজ
ট্রাইব্যুনালে শুনানির শুরুতে আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে করা আইনজীবীদের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। এরপর প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ পড়ে শোনানো হয় ট্রাইব্যুনালে। কাঠগড়ায় থাকা এ মামলার তিন আসামিকে দোষ স্বীকার করবেন কি না জিজ্ঞেস করা হলে, তারা দাঁড়িয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন এবং ট্রাইব্যুনালের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
আসামিদের তালিকা ও কার্যক্রম
আজ সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে এ মামলার তিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক। এসপি আনিসুর রহমানসহ পলাতক অন্য আসামিরা হলেন চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল। তাদের হয়ে আইনি লড়াই করছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা।
ঘটনার বিবরণ ও পরিণতি
প্রসিকিউশন জানায়, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনকে মিথ্যা মামলায় আটক করে পুলিশ। আদালতে না তুলে পরপর দুই রাত তাদের নির্যাতন করা হয়। এরপর অধীন পুলিশদের দিয়ে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে দু’জনের পায়ে গুলি করান তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান। এছাড়া ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেধে মিথ্যা মামলায় চালান দেওয়া হয় তাদের।
পরবর্তীতে অস্ত্র মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। ভুক্তভোগীদের পায়ে বালু ঢোকানোর কারণে পচন ধরে এবং পরবর্তীতে তাদের পা কেটে ফেলতে হয়েছে। এই ঘটনাটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় এসেছে।
আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা
আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়ার পাশাপাশি, ট্রাইব্যুনাল সূচনা বক্তব্যসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১ জুন দিন ধার্য করেছেন। গত ১৬ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে শুনানি শেষ করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। পরে ১২ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের আবেদন করে প্রসিকিউশন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ এ বিষয়ে আদেশ দেন আদালত।
এই মামলাটি দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তা এখন সবার নজরে।



