পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত একটি জাতিসংঘ প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় বাহরাইনসহ আঞ্চলিক দেশগুলোকে এই চরম পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন ইরানের এক শীর্ষ সংসদ সদস্য।
ইব্রাহিম আজিজির কড়া বার্তা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সংসদীয় জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি এই কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে যারা ইরানের বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনছে, তাদের এই সিদ্ধান্ত বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। বাহরাইনের মতো ছোট রাষ্ট্রগুলোকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ; তাই এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া ঠিক হবে না যাতে এটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্র-বাহরাইন যৌথ প্রস্তাবের প্রেক্ষাপট
মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের যৌথ উদ্যোগে ইরানের বিরুদ্ধে একটি খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে উত্তেজনা চরমে। গত মাসেই একই ধরনের একটি প্রস্তাবে চীন ও রাশিয়া ভেটো দিয়েছিল। তবে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে তেহরানও ওই অঞ্চলে কড়াকড়ি বাড়িয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাবে ইরান ইতোমধ্যেই তার শত্রু এবং মিত্র দেশগুলোর জন্য এই জলপথটি বন্ধ করে রেখেছে। তেহরানের দাবি, গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তান-মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে ওয়াশিংটন।
নতুন 'আইনি শাসন' চালুর পরিকল্পনা
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালির জন্য একটি নতুন 'আইনি শাসন' চালুর পরিকল্পনা করছে ইরানের সংসদ। ইব্রাহিম আজিজি জানান, এই সংক্রান্ত একটি বিল এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়া মাত্রই এটি স্থায়ী আইন হিসেবে পাস করা হবে।
এদিকে ইরানের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবিত এই আইন অনুযায়ী ইসরাইলি মালিকানাধীন কোনো জাহাজকে কোনো অবস্থাতেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য শত্রুভাবাপন্ন দেশের ক্ষেত্রেও একই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
টোল আরোপের পরিকল্পনা
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী অন্যান্য জাহাজকে নির্দিষ্ট টোল দিতে হবে, যা ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং অবকাঠামো উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, মার্কিন চাপ মোকাবিলায় ইরান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কোনো ছাড় দেবে না।
সূত্র: প্রেস টিভি



