লুৎফুর রহমানের টানা চতুর্থ জয়: টাওয়ার হ্যামলেটসে নতুন ইতিহাস
লুৎফুর রহমান টাওয়ার হ্যামলেটসে টানা চতুর্থবার মেয়র নির্বাচিত

পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র পদে টানা চতুর্থবারের মতো জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিবিদ লুৎফুর রহমান। গত ৭ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি এসপায়ার পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ৩৫ হাজার ৬৭৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লেবার পার্টির সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ১৯ হাজার ৪৫৪ ভোট।

রাজনৈতিক ইতিহাস

লুৎফুর রহমানের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ২০০২ সালে, যখন তিনি লেবার পার্টির মনোনয়নে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ২০১০ সালে লেবার পার্টি তাঁর মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন এবং জয়ী হন। এরপর থেকে টাওয়ার হ্যামলেটসে তিনি কোনো নির্বাচনে হারেননি। ২০১৪ সালে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৫ সালে আদালতের রায়ে পদ হারান এবং পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েন। ২০২২ সালে এসপায়ার পার্টি গঠন করে আবারও মেয়র নির্বাচিত হন।

নির্বাচনী কৌশল

লুৎফুর রহমানের প্রচারণার কেন্দ্রে ছিল স্থানীয় সেবা নির্ভর প্রতিশ্রুতি। তিনি বিনা মূল্যে স্কুল মিল, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অনুদান, এ-লেভেল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ভাতা, ফ্রি হোম কেয়ার, ইয়ুথ সার্ভিসে বিনিয়োগ, ফ্রি সুইমিং, কাউন্সিল ঘরবাড়ি উন্নয়ন এবং নতুন আবাসন নির্মাণের মতো ইস্যুগুলো সামনে আনেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর শক্তি তিন জায়গায়: বাংলাদেশি ও সংখ্যালঘু কমিউনিটির ভোটব্যাংক, এসপায়ার পার্টির ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠন এবং স্থানীয় সেবা নির্ভর প্রচারণা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কাউন্সিল নির্বাচনে সাফল্য

মেয়র নির্বাচনে জয়ের পাশাপাশি কাউন্সিল নির্বাচনেও বড় সাফল্য পেয়েছে এসপায়ার পার্টি। ৪৫ সদস্যের কাউন্সিলে দলটি ৩০টি আসনে জয় পেয়ে রেকর্ড সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এই জয় লুৎফুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের ষষ্ঠ বিজয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারি তদারকি ও বিতর্ক

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের শাসনব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগের পর ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় সরকার ‘মিনিস্টেরিয়াল এনভয়’ নিয়োগ করে। তবে সরকারি তদারকি, অতীত বিতর্ক এবং জাতীয় রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও লুৎফুর রহমান ভোটারদের আস্থা ধরে রাখতে সক্ষম হন।

প্রতিক্রিয়া

জয়ের পর লুৎফুর রহমান বলেন, ‘আমাকে ও এসপায়ার দলকে পুনর্নির্বাচিত করায় টাওয়ার হ্যামলেটসের জনগণকে ধন্যবাদ। আমরা জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলা, সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ ও কমিউনিটি-কেন্দ্রিক সেবা অব্যাহত রাখব।’ তিনি আরও জানান, নতুন মেয়াদে কম আয়ের পরিবারের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ট্রাভেল পাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রভাব

যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত ডেইলি ড্যাজলিং ডনের প্রকাশক সাংবাদিক মুনজের আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘এখানে অন্য প্রার্থীরা নেতৃত্বের দক্ষতা, কৌশল ও জন-আস্থার বিচারে লুৎফুর রহমানের কাছাকাছি পৌঁছানোর মতো কেউ ছিলেন না। টাওয়ার হ্যামলেটসে বাংলাদেশিরা বরাবরই দল নয়, প্রার্থী দেখে ভোট দেন।’ লুৎফুর রহমানের এই জয় পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক শক্তির বড় প্রতিফলন।