হরমুজ প্রণালি বন্ধে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর চরম সংকট
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো চরম বিপাকে পড়েছে। উত্তোলিত অপরিশোধিত তেল মজুত রাখার জায়গা না থাকায় এরই মধ্যে কুয়েতসহ বেশ কয়েকটি দেশ তেলক্ষেত্রে উৎপাদন কমানোর কাজ শুরু করেছে। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে দেশগুলোর এই সিদ্ধান্ত। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ খবর জানিয়েছে।
কুয়েতের জরুরি অবস্থা ও উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত
তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কুয়েত এখন কেবল অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর মতো তেল উৎপাদন ও শোধনের কথা ভাবছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, কুয়েতের তেলের ট্যাংকগুলো আগামী ১২ দিনের মধ্যে পুরোপুরি ভরে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই তাদের উৎপাদন আরও কমাতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতির ওপর প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি মূলত তেল রফতানির ওপর নির্ভরশীল। রফতানি পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় মজুত সংকটের এই পরিস্থিতি দেশগুলোর জন্য রাজনৈতিক ও কারিগরি উভয় দিক থেকেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সচল তেলকূপ বন্ধ করা কারিগরি ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এটি দীর্ঘমেয়াদে জলাধারের চাপের ক্ষতি করতে পারে।
বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ প্রতিদিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি এখন অচল। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মজুত স্থাপনাও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। আগামী তিন সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে দেশ দুটির তেলের ট্যাংকগুলো কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যেতে পারে। সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। গত সপ্তাহে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭২ ডলার থাকলেও বর্তমানে তা ৮৯ ডলারে ঠেকেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি একের পর এক তেলক্ষেত্র বন্ধ হয়ে যায়, তবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
অন্যান্য দেশের অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ইরাক ইতোমধ্যে তাদের তেল উৎপাদন অর্ধেকের বেশি কমিয়ে দিয়েছে। দেশটির বৃহত্তম রুমাইলা তেলক্ষেত্রে দৈনিক ৭ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমানো হয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের মজুত ক্ষমতা অনেক বেশি হলেও এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর দিয়ে কিছু তেল রফতানি করতে পারলেও, তা তাদের বিশাল উৎপাদনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। এ ছাড়া ড্রোন হামলার কারণে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোও ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ইউবিএস-এর কমোডিটি স্ট্র্যাটেজিস্ট জিওভানি স্টাউনোভো বলেন, ‘রফতানি পুনরায় শুরু হলেও সব কূপ একই দিনে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। এতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।’



