মার্কিন আদালতের রায়ে ট্রাম্পের শুল্ক ফেরত, আমদানিকারকদের বড় সুযোগ
মার্কিন আদালতের রায়ে ট্রাম্পের শুল্ক ফেরত

মার্কিন আদালতের রায়ে ট্রাম্পের শুল্ক ফেরত, আমদানিকারকদের বড় সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত একটি ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন, যা মার্কিন আমদানিকারকদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। গতকাল বুধবার আদালত আদেশ দিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় গত বছর যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা আমদানিকারকদের ফেরত দিতে হবে। ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন বিভাগকে এই অর্থ ফেরতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে রায়

এই রায় মূলত গত মাসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া হয়েছে, যেখানে ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক বাতিল করা হয়েছিল। ফেডারেল আদালতের বিচারক রিচার্ড ইটন তাঁর আদেশে স্পষ্ট করে বলেন, যেসব আমদানিকারকের পণ্যের ওপর ওই আইনের আওতায় শুল্ক বসানো হয়েছিল, তারা সবাই সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সুবিধা পাওয়ার অধিকারী। তবে কীভাবে এবং কত দ্রুত এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, যা একটি অনিশ্চয়তা হিসেবে রয়ে গেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা

বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে কাজ করছে। তিনি ইতিমধ্যে ওই শুল্কের পরিবর্তে নতুন আমদানি কর আরোপের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং শুল্ক ফেরতের সম্ভাবনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন ওই আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা অধিকাংশ পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে আনুমানিক ১৩০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আদায় করেছিল, যা এখন ফেরত দেওয়ার চাপে পড়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা ও ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া

এই রায় মূলত টেনেসিভিত্তিক কোম্পানি অ্যাটমাস ফিলট্রেশন টেকনোলজির মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া হয়েছে। বিচারক জানিয়েছেন, শুল্ক ফেরতসংক্রান্ত অন্য মামলাগুলোর শুনানি তিনি নিজেই করবেন। এদিকে, বৈশ্বিক পরিবহন ও কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান ফেডেক্সসহ কয়েকটি বড় কোম্পানি আদালতে মামলা করে শুল্কের পুরো অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবি করেছে। শুল্ক ফেরতের দাবিতে গঠিত ছোট ব্যবসায়ীদের জোট ‘উই পে দ্য ট্যারিফস’–এর প্রতিনিধি ড্যান অ্যান্থনি আদালতের এই রায়কে বড় সাফল্য হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, মার্কিন ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছে এবং দ্রুততার সঙ্গে তাদের পুরো শুল্ক ফেরত পাওয়ার অধিকার আছে।

ভবিষ্যৎ শুল্কনীতির অনিশ্চয়তা

তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ আমদানি শুল্কনীতি কেমন হবে, তা নিয়ে এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ করা হতে পারে, যা সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করা শুল্কের বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছরের ২ এপ্রিল ট্রাম্প ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যেখানে বিশ্বের ১৫৭টি দেশের ওপর ১০ শতাংশ থেকে শুরু করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। এর পর বিভিন্ন দেশ শুল্কহার কমাতে বাণিজ্য আলোচনায় বসে, কিন্তু এখন নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা চলছে।

জরুরি ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে—এ যুক্তি দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট গত মাসে এই পাল্টা শুল্ক বাতিল করে দেন, একই সঙ্গে মেক্সিকো, কানাডা ও চীন থেকে আমদানি করা কিছু পণ্যের ওপর ঘোষিত শুল্কও বাতিল করা হয়। হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি, তবে বাতিল হওয়া শুল্ক পরিশোধ করা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রশাসন ক্রমেই চাপের মুখে পড়ছে, যা শুল্ক ফেরত দেওয়ার দাবি জোরালো করছে।