স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে তো বটেই, ওষুধের দোকানে, এমনকি বাড়িতেও রক্তচাপ হরদম মাপা হয়। প্রায়ই অনেকে বলে থাকেন, একই দিনে একেক জায়গায় রক্তচাপ মাপলে একেক রকম আসে। রক্তচাপ মাপার সঠিক প্রস্তুতি না নেওয়া হলে ভুল ফলাফল আসতে পারে। তাই খেয়াল রাখুন—
রক্তচাপ মাপার আগে করণীয়
আধা ঘণ্টার প্রস্তুতি: রক্তচাপ মাপার আগের আধা ঘণ্টা সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় কোনো ধরনের ব্যায়াম করবেন না। কোনো পানীয় (বেভারেজ) গ্রহণ করবেন না। বিশেষত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় (চা, কফি, চকলেট মেশানো) অবশ্যই নয়। ধূমপানের অভ্যাস থাকলেও এই সময় নিজেকে বিরত রাখুন।
ওয়াশরুম ব্যবহার
আগেভাগেই ওয়াশরুমের কাজ সেরে নিন। রক্তচাপ মাপার সময় প্রস্রাব বা পায়খানার চাপ থাকলে ফলাফল এলোমেলো আসতে পারে।
বসার সঠিক ভঙ্গি
রক্তচাপ মাপার ঠিক আগের পাঁচ মিনিট শান্ত হয়ে বসে থাকুন। আরাম করে পিঠ চেয়ারে হেলান দিয়ে রাখুন। মাটিতে সোজাভাবে পা রাখুন। পায়ের ওপর পা তুলে বসবেন না। কনুইসহ হাত থাকবে টেবিলের ওপর। এই সময় কথা বলবেন না। মুঠোফোন বা টেলিভিশন বা অন্য কোনো ডিজিটাল স্ক্রিনে চোখ রাখবেন না।
পোশাক ও বাহু নির্বাচন
বড় হাতার পোশাক পরলে খেয়াল রাখুন, হাতাটা যেন গোটানো যায়। বাঁ কিংবা ডান যেকোনো বাহুতেই রক্তচাপ মাপা যায় (যদি বিশেষ কোনো কারণে আপনার কোনো বাহুতে রক্তচাপ মাপার নিষেধাজ্ঞা না থাকে)। তবে কবজি বা আঙুলে রক্তচাপ মাপার যন্ত্রগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।
রক্তচাপ মাপার সময় করণীয়
রক্তচাপ মাপার সময় কথা বলবেন না। নড়াচড়া করবেন না। রক্তচাপ মাপার এক-দুই মিনিট পর আবার মাপুন। রক্তচাপের রেকর্ড রাখুন।
যন্ত্র নির্বাচন ও রক্ষণাবেক্ষণ
রক্তচাপ মাপতে ডিজিটাল বা অ্যানালগ দুই ধরনের যন্ত্রই কাজে লাগাতে পারেন। তবে যন্ত্রের গুণগত মান এবং ব্যবহারবিধি বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন। বছরে একবার যন্ত্রটি একজন পেশাদার ব্যক্তিকে দেখিয়ে নিন। পাঁচ বছরের পুরোনো হয়ে গেলে যন্ত্রটি বদলানোর প্রয়োজনও হতে পারে।
সূত্র: আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন ও জনস হপকিনস হেলথ কেয়ার



