ডেঙ্গু আর মৌসুমি রোগ হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই, তবে বর্ষা মৌসুমের আগমনের সাথে সাথে এটি সবচেয়ে বিপজ্জনক রূপ ধারণ করে। এই সময়ে এডিস মশার প্রজনন বেড়ে যায়, এবং এ বছরই আমাদের বুঝতে হবে যে এই রোগের কারণে সৃষ্ট দুর্ভোগের চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
বার্ষিক সতর্কতা ও প্রতিক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি
প্রতি বছরই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়, সংক্রমণ বেড়ে যায়, হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ে, এবং প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু ঘটে। এই প্রতিক্রিয়াশীল পদ্ধতির পরিবর্তন জরুরি। ডেঙ্গু ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে যে এটি আমাদের হাসপাতালগুলোকে বিপর্যস্ত করতে, স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এবং পরিবারগুলোকে ধ্বংস করতে সক্ষম।
প্রতিরোধে জোর দিতে হবে
প্রাদুর্ভাবের পরে শুধু ফগিং বা সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো যথেষ্ট নয়। হাসপাতালের ওয়ার্ড ভর্তি হওয়ার পর প্রস্তুতি নেওয়ার সময় নেই। প্রতিরোধের কথা বারবার বলা হলেও জরুরি ভিত্তিতে তা বাস্তবায়ন করা হয় না। এই পরিবর্তন আনতে হবে।
ভেক্টর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হতে হবে পদ্ধতিগত, নিছক প্রতীকী নয়। ড্রেন পরিষ্কার করা, জমা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল পর্যবেক্ষণে সিটি কর্পোরেশনগুলোকে জবাবদিহি করতে হবে।
জনসচেতনতা ও হাসপাতালের প্রস্তুতি
জনসচেতনতা শুধু স্লোগানে সীমাবদ্ধ না থেকে নাগরিকদের তাদের বাড়ি ও আশপাশের এলাকা রক্ষার জন্য ব্যবহারিক পদক্ষেপ নিতে শেখাতে হবে। হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে হবে এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। পর্যাপ্ত শয্যা, টেস্টিং কিট এবং প্রশিক্ষিত কর্মী প্রতি বছরই প্রয়োজন, এবং স্বাস্থ্য বাজেট বেড়ে যাওয়ায় এই ঘাটতি পূরণের আর কোনো অজুহাত নেই।
শাসনব্যবস্থার পরীক্ষা
ডেঙ্গুকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। এটি আমাদের শাসনব্যবস্থার পরীক্ষা – কর্তৃপক্ষ কি মৃত্যুর সংখ্যা আবার শত-হাজারে না পৌঁছানোর আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবে? ডেঙ্গুকে বার্ষিক অসুবিধা হিসেবে না দেখে বরং সঙ্কট হিসেবে বিবেচনা করে মোকাবিলা করতে হবে।



