দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে উদ্বেগ: ২৪ ঘণ্টায় ৫ শিশুর মৃত্যু
দেশে এই সময়ে এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে শিশুর হাম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিন শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। বাকি দুই শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি শিশুর সংখ্যা উদ্বেগজনক
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১১৫ শিশু। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ১২৭ শিশুর। এই হিসাব ১৬ এপ্রিল সকাল আটটা থেকে ১৭ এপ্রিল সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ের।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামে যে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে দুই শিশু বরিশাল বিভাগের বরগুনা জেলার। আর একটি ঢাকা বিভাগের। হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া দুই শিশুই ঢাকা বিভাগের। এই সময়ে সর্বোচ্চ ১২০ শিশুর হাম শনাক্ত হয় ঢাকা বিভাগে। ৫ শিশুর হাম শনাক্ত হয় রাজশাহী বিভাগে। বরিশাল ও খুলনায় একটি করে শিশুর হাম শনাক্ত হয়।
ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও ভর্তি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ১১৫ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা যায়। এর মধ্যে ৫১৫ জনই ঢাকা বিভাগের। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৬৯ শিশু। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৫৭ শিশু ভর্তি হয়। সবচেয়ে কম ৪ শিশু ভর্তি হয় রংপুর বিভাগে।
এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৭৪৭ শিশু গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩১৩ শিশু, খুলনা বিভাগে ১১৮ শিশু।
১৫ মার্চ থেকে চলমান পরিসংখ্যান
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে মোট ৩৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৭৪ শিশুর। একই সময়ে হামের উপসর্গ থাকা রোগীর মোট সংখ্যা ২১ হাজার ৪৬৭।
এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৮৯৮। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ১৯২ জনের হাম শনাক্ত হয়। আর হাসপাতাল থেকে ছাড় পাওয়া রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ২৪৩। এই পরিসংখ্যান হামের প্রাদুর্ভাবের ভয়াবহতা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর চাপের চিত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।



