মার্চ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত, প্রাণহানি বেড়েছে ১১ শতাংশ
মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ নিহত, প্রাণহানি বেড়েছে ১১%

মার্চ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জনের প্রাণহানি, ঢাকায় সর্বোচ্চ দুর্ঘটনা

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত ও ২ হাজার ২২১ জন আহত হয়েছেন। এই সময়ে মোট ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় প্রাণহানি ১১.২৮ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। প্রতিবেদনটি শনিবার সকালে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, যা ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন পোর্টাল এবং ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি।

নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুদের সংখ্যা উদ্বেগজনক

নিহত ৫৩২ জনের মধ্যে ৬৬ জন নারী এবং ৯৮ জন শিশু রয়েছেন, যা সড়ক নিরাপত্তার গুরুতর সংকট তুলে ধরে। এছাড়া, একই সময়ে ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। পাশাপাশি, ৪৮টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত ও ২২৪ জন আহতের ঘটনা ঘটেছে।

যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যান

দুর্ঘটনায় নিহতদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী ২০৪ জন সর্বোচ্চ সংখ্যক নিহত হয়েছেন। অন্যান্য যানবাহনের মধ্যে:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • বাসের যাত্রী: ৪৫ জন
  • ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টরের আরোহী: ২৮ জন
  • প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাসের আরোহী: ৪৬ জন
  • তিন চাকার যানবাহনের যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা): ৯৪ জন
  • স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-পাখিভ্যান-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র): ২৩ জন
  • সাইকেল আরোহী: ১৩ জন

দুর্ঘটনার স্থান ও কারণ বিশ্লেষণ

দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৭১টি জাতীয় মহাসড়কে, ২৬৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৭০টি গ্রামীণ সড়কে, ৬২টি শহরের সড়কে এবং ৯টি অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে। প্রধান কারণগুলোর মধ্যে ১৬৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৩১টি নিয়ন্ত্রণ হারানো, ৮৬টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়া এবং ৮২টি যানবাহনের পেছনে আঘাত অন্তর্ভুক্ত। মোট ১,০০৮টি যানবাহন দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল, যার মধ্যে বাস ১৩৩টি ও ট্রাক ১২০টি উল্লেখযোগ্য।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান ও তুলনামূলক বৃদ্ধি

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন, অন্যদিকে সিলেট বিভাগে সর্বনিম্ন ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানী ঢাকায় ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিদিন গড়ে ১৫.৪২ জন নিহত হওয়ার বিপরীতে মার্চ মাসে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭.১৬ জনে, যা ১১.২৮ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। অধিকাংশ দুর্ঘটনা অতিরিক্ত গতির কারণে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলাফল।

সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ ও সমাধানের পরামর্শ

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা এবং শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা অন্তর্ভুক্ত। সংস্থাটি গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং চালকদের জন্য প্রেরণামূলক প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়েছে, যা দুর্ঘটনা হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।