বিশ্বকাপকে ঘিরে ঢাকায় জার্সি-পতাকার বেচাকেনা বেড়েছে
বিশ্বকাপকে ঘিরে ঢাকায় জার্সি-পতাকার বেচাকেনা বাড়ছে

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বজুড়ে উৎসবের আমেজ। সেই উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশেও। বৈশ্বিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরের পর্দা উঠছে ১১ জুন। এর আগে রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতান এবং ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানে বেড়েছে বিভিন্ন দেশের ফুটবল দলের জার্সি ও পতাকার বেচাকেনা। এই বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশ না থাকলেও বিক্রিতে পিছিয়ে নেই লাল-সবুজের পতাকাও। সরেজমিন দেখা গেছে, ফুটবলপ্রেমীরা ভিড় করছেন নিজেদের পছন্দের দলের জার্সি ও পতাকা কিনতে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, এবারও আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থকদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। দুই দেশের জার্সি ও পতাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে।

গুলিস্তানে জার্সি-পতাকার হাট

আজ বুধবার রাজধানীর গুলিস্তান এলাকার ফুটপাত এবং দেশের অন্যতম বড় ক্রীড়াসামগ্রীর বাজার সমবায় টুইন টাওয়ার মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন দোকানে ক্রেতারা ভিড় করছেন। কেউ কিনছেন প্রিয় দলের জার্সি, কেউবা পতাকা। বিক্রেতারা বলছেন, পতাকার তুলনায় জার্সির চাহিদা বেশি।

শহীদ নূর হোসেন চত্বর থেকে গুলিস্তানের দিকে প্রধান সড়কের পাশের ফুটপাতে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দলের জার্সি বিক্রি করছেন মো. আহসান উল্লাহ। সারা বছর নারীদের পোশাক বিক্রি করলেও বিশ্বকাপ এলেই তিনি জার্সির ব্যবসা শুরু করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আহসান উল্লাহ বলেন, বিশ্বকাপ উপলক্ষে এক মাস আগে থেকেই জার্সি বিক্রি শুরু করেছেন। তবে আগের বিশ্বকাপগুলোর তুলনায় এবার বিক্রি কিছুটা কম। ঈদের আগে বিক্রি ভালো হলেও এখন ক্রেতা কিছুটা কম।

এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমার কাছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সি আছে। সাধারণ মানের জার্সি ১৫০ টাকা আর “প্লেয়ার ভার্সনের” জার্সি ৩৫০ টাকায় বিক্রি করছি। আর্জেন্টিনার জার্সিই বেশি বিক্রি হচ্ছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পতাকার ব্যবসাও জমজমাট

গুলিস্তানের শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউয়ের একটি গলিতে ভ্যানে করে জার্সি ও পতাকা বিক্রি করছিলেন আবদুল কাদের। সারা বছর ফল ও কাঁচামাল বিক্রি করলেও বিশ্বকাপ এলেই তিনি এই ব্যবসায় নামেন। প্রায় দুই দশক ধরে এই মৌসুমি ব্যবসা করে আসছেন তিনি।

আবদুল কাদের বলেন, তিনি ৩ ফুটের পতাকা ১০০ টাকা, ৫ ফুটের পতাকা ২৫০ টাকা আর ১০ ফুটের পতাকা ৮০০ টাকায় বিক্রি করছেন। এ ছাড়া ৫ ফুটের বাংলাদেশের পতাকা বিক্রি করছেন ১৫০ টাকায়।

বেচাকেনা নিয়ে আবদুল কাদের বলেন, ‘ঈদের আগে বিক্রি ভালো ছিল। অনেকেই বাড়িতে যাওয়ার সময় সন্তানদের জন্য জার্সি-পতাকা কিনে নিয়েছেন। এবার ব্রাজিলের পতাকা তুলনামূলক বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে আগের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পতাকার চাহিদা বেশি ছিল।’

একই এলাকায় সারা বছর বিভিন্ন ধরনের পতাকা বিক্রি করেন এনামুল হক মোমিন। জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে দেশীয় পতাকার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের পতাকা এবং বিশ্বকাপ এলে বিভিন্ন দেশের পতাকা বিক্রি করেন তিনি।

এনামুল হক বলেন, গত বিশ্বকাপের তুলনায় বিক্রি কিছুটা কম। খেলা শুরু হলে বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছেন। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পাশাপাশি স্পেন, পর্তুগাল, ফ্রান্স ও জার্মানির পতাকাও বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন তিনি।

জার্সির দাম ও নাম লেখানোর প্রবণতা

শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউয়ে ‘লাক্সারি স্পোর্টস’ দোকানের মালিক আবুল খায়ের বলেন, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, পর্তুগাল, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের জার্সি ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।

গুলিস্তানের সমবায় টুইন টাওয়ার মার্কেটের একাধিক দোকান ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। মার্কেটের দ্বিতীয় তলার শান্ত স্পোর্টসের মালিক শান্ত ইসলাম বলেন, ঈদের আগে বিক্রি অনেক বেশি ছিল। ছুটির পর দোকান খোলার পরও বিক্রি মোটামুটি ভালো। পতাকার বিক্রি আগের তুলনায় কিছুটা কম।

তৃতীয় তলার মিনহা স্পোর্টসের মালিক আবদুল বারেক পাটোয়ারী জানান, প্রত্যাশা অনুযায়ী পাইকারি বিক্রি হয়েছে। অনেক পণ্য বিক্রি হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে দোকানে জার্সির মজুতও কমে এসেছে।

এদিকে জার্সি কেনার পর সেই জার্সিতে প্রিয় খেলোয়াড় বা নিজের নাম লেখানোর প্রবণতাও বেড়েছে। আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউয়ের গলিতে এমন অন্তত ১০টির বেশি দোকানে বুধবার বিকেলে আগ্রহী ব্যক্তিদের ভিড় দেখা যায়।

নাম লেখার কাজ করা মো. ছিদ্দিক উল্ল্যাহ বলেন, সাধারণ জার্সিতে নাম লেখাতে ৫০ টাকা, সাদা স্টিকার দিয়ে লিখতে ১০০ টাকা আর ‘অফিশিয়াল জার্সিতে’ নাম লেখাতে ১৫০ টাকা নেওয়া হয়। তিনি জানালেন, ‘সবচেয়ে বেশি নাম লেখা হচ্ছে আর্জেন্টিনার জার্সিতে। এরপর ব্রাজিল ও পর্তুগালের জার্সিতে।’

কেরানীগঞ্জ থেকে জার্সি কিনতে আসা মনির হোসেন মাহিন ৯০০ টাকা দিয়ে আর্জেন্টিনা দলের জার্সি কিনেছেন। তিনি বলেন, ‘সবকিছুর দামই এখন বেড়েছে। জার্সির দাম কিছুটা বেশি হলেও মানিয়ে নেওয়া যায়। তবে নাম লেখানোর খরচটা তুলনামূলক বেশি মনে হয়েছে।’