ব্রেকফাস্ট না করলে অ্যাসিডিটি বাড়ে, জেনে নিন সঠিক সময় ও খাবার
ব্রেকফাস্ট না করলে অ্যাসিডিটি বাড়ে, সঠিক সময় জানুন

ব্রেকফাস্ট না করার জেরে অ্যাসিডিটি বাড়ে, সতর্ক হোন এখনই

সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি, অফিসের তাড়া, আর সময়াভাবে ব্রেকফাস্ট না করেই বাসা থেকে বেরিয়ে পড়া—এমন দৃশ্য অফিসগামী অনেকেরই নিত্যদিনের সঙ্গী। প্রায় প্রতিদিনই খালি পেটে বাড়ি ছাড়েন অনেকে, অথচ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, ঘুম থেকে ওঠার ২ ঘণ্টার বেশি সময় না খেয়ে থাকা উচিত নয়। কেউ আবার ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা ওজন কমানোর জন্য ব্রেকফাস্ট এড়িয়ে চলেন, কিন্তু এই অভ্যাস বিপাকক্রিয়া নষ্ট করে ক্রনিক গ্যাস-অম্বলের সমস্যা ডেকে আনে।

কেন ব্রেকফাস্ট এত গুরুত্বপূর্ণ?

রাতে ঘুমানোর সময় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা আমাদের পেট খালি থাকে, যা একটি দীর্ঘ বিরতি। এই দীর্ঘ বিরতির পর সকালে সঠিক সময়ে খাবার না খেলে শরীরে নানা বিরূপ প্রভাব পড়ে, যার মধ্যে অন্যতম হলো তীব্র অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে ঘুম থেকে ওঠার ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার মধ্যে ব্রেকফাস্ট করা সবচেয়ে ভালো, কারণ এটি পাকস্থলীতে জমে থাকা অ্যাসিড দূর করতে সাহায্য করে।

শরীরের জৈবিক ঘড়ি ও অ্যাসিড তৈরির প্রক্রিয়া

আপনার শরীরের জৈবিক ঘড়ি অনুযায়ী, সকালে ঘুম থেকে ওঠার আগেই পাকস্থলীতে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড তৈরি হতে শুরু করে। যখন আপনি কোনো সলিড খাবার গ্রহণ না করেন, তখন খালি পেটে এই অ্যাসিড জমতে থাকে, যার ফলে পেটে জ্বালা ভাব, বুক জ্বালা, ঢেকুর ওঠা, বমি বমি ভাব এবং জিভে টক স্বাদের মতো সমস্যা দেখা দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজে ভোগেন, তাদের বেশিরভাগই নিয়মিত ব্রেকফাস্ট স্কিপ করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সঠিক ব্রেকফাস্টের সময় ও পদ্ধতি

ঘুম থেকে উঠেই ভারি খাবার খাওয়া সম্ভব নয়, তবে ঘুমভাঙার এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে ব্রেকফাস্ট সেরে ফেলা উচিত। প্রথমে এক গ্লাস পানি পান করুন, তারপর ৬০ থেকে ৯০ মিনিটের মধ্যে ব্রেকফাস্ট খেয়ে নিন। এটি হজম প্রক্রিয়া সচল রাখতে সহায়তা করবে এবং অ্যাসিড রিফ্লাক্সের ঝুঁকি কমাবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কোন খাবার খাবেন, কোনটি এড়িয়ে চলবেন

ব্রেকফাস্টে বিশেষ ধরনের খাবার বেছে নেওয়া জরুরি। অ্যাসিডিটি কমাতে ওটস, আটার রুটি বা গোটাশস্য জাতীয় খাবার খান, যা পাকস্থলীর জন্য সহজপাচ্য। খালি পেটে তেল-মসলাদার খাবার, সাইট্রাস জুস বা কার্বোনেটেড পানীয় এড়িয়ে চলুন। অনেকেই চা-কফি বা বিস্কুট-কেক দিয়ে দিন শুরু করেন, কিন্তু এগুলো ব্রেকফাস্টের বিকল্প হতে পারে না। ভারি খাবার খাওয়ার পরেই চা-কফি পান করা উচিত, যাতে হজমে ব্যাঘাত না ঘটে।

সার্বিকভাবে, নিয়মিত ও সঠিক সময়ে ব্রেকফাস্ট করা শুধু অ্যাসিডিটি প্রতিরোধই নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্য রক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ব্যস্ত জীবনযাপনে হলেও সকালের নাস্তাকে অগ্রাধিকার দিন, সুস্থ থাকুন দীর্ঘদিন।