হামে শিশুমৃত্যু তদন্ত শুরু, ফলাফল জানানো হবে: স্বাস্থ্যসচিব
হামে শিশুমৃত্যু তদন্ত শুরু, ফলাফল জানানো হবে

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘হামের প্রাদুর্ভাব ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকের আয়োজন করে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ)। বৈঠকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্তের কাজ শুরু হয়েছে।

বৈঠকে এক সাংবাদিক টিকার সংকট ও হামের ঘটনায় তদন্তের বিষয়ে প্রশ্ন করলে স্বাস্থ্যসচিব বলেন, ‘আমরা কাজ করছি।’ তিনি আরও বলেন, তদন্ত শুরু হয়েছে এবং কেন শিশুদের হারানো হলো, কারও কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তের ফলাফল সাংবাদিকসহ দেশবাসীকে জানানো হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। তবে তদন্ত কমিটি কাদের নিয়ে গঠিত এবং কবে তা গঠন করা হয়েছে—এ বিষয়ে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

বৈঠকে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, জনস্বাস্থ্যবিদ বে-নজির আহমেদ, মুশতাক হোসেন, আবদুস সবুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দ আবদুল হামিদ, ড্যাবের মহাসচিব জহিরুল ইসলাম শাকিল, টিকা বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম এ বারি, ভাইরাস বিশেষজ্ঞ খন্দকার মাহবুবা জামিল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেন্টাল অনুষদের ডিন সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পিডিয়াট্রিক ইনফেকশন ডিজিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মির্জা জিয়াউল ইসলাম। ইউনিসেফ ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি প্রতীক ইজাজ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

টিকার সংকট ও হামের প্রাদুর্ভাব

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে এবং টিকার সংকটের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এতে কয়েকটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করা হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করতে হবে এবং টিকার পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। ইউনিসেফ ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।