মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বস্তরে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। খাদ্যে ক্ষতিকর পদার্থ ও অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে।
গবেষণার গুরুত্ব
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর সেফ ফুড (বিএসএসএফ) আয়োজিত ‘খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য’ বিষয়ক ৮ম জাতীয় বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘টেকসই ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের গবেষক, বিজ্ঞানী ও খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
প্রতিমন্ত্রী গবেষণার ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে বিজ্ঞানীদের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে আরও বেশি কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এক সময় ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ হিসেবে পরিচিত ছিল। মাছ উৎপাদন বাড়াতে এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা নিশ্চিতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। তিনি স্বীকার করেন, বিপুল জনসংখ্যাকে নিরাপদ খাবার সরবরাহ করা কঠিন, তবে প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পুষ্টিকর ও টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী মাদক সমস্যা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটি একটি বড় সামাজিক সংকট। তিনি যুব সমাজকে রক্ষায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিএসএসএফ সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. খালেদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) সভাপতি মশিউর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের সাবেক সদস্য পরিচালক (মৎস্য) ড. মো. মনিরুল ইসলাম।



