মাইক্রোবাসে অ্যাম্বুলেন্স সেবা: চমেক হাসপাতালে অনিয়মের অভিযোগ
মাইক্রোবাসে অ্যাম্বুলেন্স সেবা: চমেকে অনিয়মের অভিযোগ

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সেবায় ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়েছে। মাইক্রোবাস হিসেবে নিবন্ধিত গাড়ি দিয়ে রোগী ও মরদেহ পরিবহন করা হচ্ছে। এছাড়া নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুণের বেশি আদায় এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।

নিবন্ধনের গরমিল

সম্প্রতি হাসপাতালের পূর্ব গেট এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা ১২টি অ্যাম্বুলেন্সের নথি যাচাই করে দেখা যায়, ৭টির নিবন্ধন মাইক্রোবাস হিসেবে। বিআরটিএর নিয়ম অনুযায়ী, অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর প্লেটে ৭১ সংখ্যা থাকার কথা, কিন্তু এসব গাড়ির নম্বর শুরু হয়েছে ১১ ও ৫১ দিয়ে। ফিটনেস সনদ ও হালনাগাদ ট্যাক্স টোকেনও নেই।

ভাড়া আদায়ে অনিয়ম

গত মার্চ মাসে ফটিকছড়ি উপজেলায় লাশ পরিবহনের রসিদে দেখা যায়, নির্ধারিত ভাড়া ৩ হাজার ৫৭১ টাকা হলেও আদায় করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. নুরুল করিম জ্বালানিসংকটের কারণে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাসপাতালের কর্মচারীরা সমিতির সদস্য

জানা গেছে, হাসপাতালের তিনজন কর্মচারী অ্যাম্বুলেন্স সমিতির সদস্য। তবে তাঁদের নামে অ্যাম্বুলেন্সের মালিকানা নেই। এনসিলারি ভবনের ফ্লোর ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, তাঁর নামে কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই এবং তিনি রোগীদের জিম্মি করে সেবা দেওয়ার সুযোগ পান না।

চাঁদাবাজির অভিযোগ

সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে মাসে ৭০০-৮০০ টাকা করে চাঁদা তোলা হয়। মোট চাঁদার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ টাকা। চাঁদা না দিলে রোগী পরিবহনের সিরিয়াল পাওয়া যায় না। সমিতির সভাপতি মো. ইউসুফ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, টাকা সমিতির জন্য খরচ করা হয়।

বিআরটিএ ও মেয়রের বক্তব্য

বিআরটিএ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক উথোয়াইনু চৌধুরী বলেন, নিয়মিত অভিযান চলছে এবং এসব অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে। সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ভাড়ার তালিকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে এবং চাঁদাবাজি বা সড়ক দখলের চেষ্টায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সুশাসন সংগঠনের প্রতিক্রিয়া

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সভাপতি আখতার কবীর চৌধুরী বলেন, মানুষের দুর্দশাকে পুঁজি করে মরদেহ নিয়ে ব্যবসা জঘন্য অপরাধ। এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।