পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বুধবার বলেছেন, অন্য দেশের কোনো রাজনৈতিক নেতার মন্তব্য বাংলাদেশের আলোচনার বিষয় নয়। তবে ওসমান হাদি হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে তারা ভারত সরকারের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক চ্যানেলে কাজ করছেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অন্য দেশে একটি নির্বাচন হয়েছে এবং একজন রাজনৈতিক নেতা কিছু মন্তব্য করেছেন। তা আমাদের আলোচনার বিষয় নয়।’ ওসমান হাদি হত্যার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ইস্যুতে ভারত সরকারের কোনো সরকারি যোগাযোগ পেলে বাংলাদেশ তা যথাযথভাবে বিবেচনা করবে।
তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উভয়ই এই বিষয়ে সক্রিয় ও গুরুত্ব সহকারে কাজ করছে এবং ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ‘আমরা হাদি হত্যার বিচার চাই। প্রচেষ্টা চলছে এবং আমরা আশা করি ভারতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে যাতে এখানে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া যায়,’ বলেন তিনি।
কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ
শামা ওবায়েদ জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি চ্যানেলের মাধ্যমে মামলাটি পরিচালনা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই ইস্যুতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখছে। কলকাতার একজন রাজনৈতিক নেতার মন্তব্যের ভিত্তিতে কোনো জবাব দেওয়া উপযুক্ত হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মমতার অভিযোগ
ত্রিপুরার কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার অভিযোগ করেন, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাকে বাংলাদেশি রাজনৈতিক কর্মী হত্যার সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার সম্পর্কে চুপ থাকতে বলেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, তিনি ওই কর্মী হত্যার পেছনে কারা জড়িত তা জানেন, যার হত্যা বাংলাদেশে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল। তবে তিনি নাম প্রকাশ করবেন না বলেও জানান, কারণ তা করলে বাংলাদেশে অস্থিরতা বাড়তে পারে। যদিও তিনি ভুক্তভোগীর নাম উল্লেখ করেননি, তার মন্তব্য বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের নিহত মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির কথা ইঙ্গিত করে।



