ঘরের ধুলার বড় অংশই আপনার নিজের মরা চামড়া!
ঘরের ধুলার বড় অংশই আপনার নিজের মরা চামড়া!

সকালে ঘুম থেকে উঠে জানালার পর্দা সরালে একচিলতে রোদ এসে পড়ে ঘরের মেঝেতে। সেই রশ্মিতে অসংখ্য ধূলিকণা ভেসে বেড়াতে দেখা যায়। পড়ার টেবিল দু-চার দিন না পরিষ্কার করলেই ধুলার আস্তরণ পড়ে। কিন্তু দরজা-জানালা বন্ধ থাকার পরও এ ধুলা কোথা থেকে আসে? বিজ্ঞানের সত্য হলো, এই ধুলার বিশাল অংশ আপনার নিজের শরীর থেকে খসে পড়া মৃত চামড়া!

প্রতি ঘণ্টায় ২০ কোটি মৃত কোষ

ইংল্যান্ডের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষকেরা বলছেন, একজন সাধারণ মানুষের শরীর থেকে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২০ কোটি মৃত ত্বকের কোষ খসে পড়ে। দিনের ২৪ ঘণ্টায় সেই সংখ্যা বিশাল। আমাদের ত্বক সব সময় নিজেকে নতুন করে তৈরি করে। ভেতরের স্তরে নতুন কোষ জন্ম নেয়, যা ধীরে ধীরে ওপরে উঠে এসে মরে ঝরে পড়ে। এই কোষ খালি চোখে দেখা যায় না, কিন্তু লাখ লাখ জমে ধুলা তৈরি করে।

ধুলার অন্যান্য উৎস

ঘরের ধুলায় বাইরের মাটি, কাপড়ের সুতা, পোষা প্রাণীর লোমও থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, বদ্ধ ঘরের ধুলার সবচেয়ে বড় উৎস মানুষের মরা চামড়া। এই মরা চামড়া খেয়ে বেঁচে থাকে ডাস্ট মাইট নামের ক্ষুদ্র প্রাণী, যা অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া দেখা যায় না। এরা বিছানা, বালিশ ও কার্পেটে লাখ লাখ সংখ্যায় থাকে এবং আমাদের কোনো ক্ষতি না করে বরং পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উপকারী মরা চামড়া

আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির প্রতিবেদন বলছে, খসে পড়া মরা চামড়া আমাদের জন্য উপকারী। আমাদের ত্বক থেকে স্কোয়ালিন নামে প্রাকৃতিক তেল নিঃসৃত হয়, যা ত্বককে শুষ্কতার হাত থেকে বাঁচায়। চামড়ার কোষ খসে পড়ার পরও এই তেল লেগে থাকে। ঘরের ধুলায় মিশে এই তেল ওজোন গ্যাসের মাত্রা প্রায় ১৫ শতাংশ কমিয়ে আনে। ওজোন গ্যাস ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর, তাই এই প্রক্রিয়া বাতাস পরিষ্কার করে ফুসফুস সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

আমাদের মানবদেহ এক বিস্ময়কর যন্ত্র। শরীর থেকে চামড়া খসে পড়া একটি স্বাভাবিক ও উপকারী প্রক্রিয়া।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ