ভারতের পিআইএমএস হাসপাতাল বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে
বাংলাদেশে প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়া হাম ও ভাইরাস জ্বরসহ ক্যানসারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসায় বিশেষ সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে ভারতের রাজস্থানের উদয়পুরে অবস্থিত পিআইএমএস (মাল্টি সুপার স্পেশালিটি) হাসপাতাল। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই আগ্রহ প্রকাশ করেন।
হাম ও ভাইরাস জ্বরের চিকিৎসায় অভিজ্ঞ দল পাঠানোর প্রস্তাব
সংবাদ সম্মেলনে পিআইএমএস অনকো সার্জারি সার্ভিসের পরিচালক কুরেশ বামবারা বলেন, বাংলাদেশ সরকার চাইলে দেশে ছড়িয়ে পড়া হাম ও ভাইরাস জ্বরের চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য তাদের অভিজ্ঞ চিকিৎসক দল পাঠাতে প্রস্তুত। এমনকি অডিও-ভিডিওর মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচিতেও তারা কারিগরি সহায়তা দেবে।
কুরেশ বামবারা জানান, ভারতের সিএমসি বা অ্যাপোলোর মতো হাসপাতালগুলোর তুলনায় অনেক কম খরচে এবং উন্নত প্রযুক্তিতে বাংলাদেশিদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করবে পিআইএমএস। তিনি বলেন, “ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বের কথা বিবেচনা করে আমরা বাংলাদেশি রোগীদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসা, দ্রুত ডকুমেন্টেশন এবং দেশে ফেরার পর নিয়মিত ফলো-আপের বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করেছি।”
জটিল সার্জারি ও আধুনিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি
গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল সার্জারি সার্ভিসের পরিচালক ডা. কামাল কিশোর বিষ্ণু জানান, তাদের হাসপাতালে লিভার, প্যানক্রিয়াস ও পিত্তথলির জটিল সার্জারি হচ্ছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে তারা প্রতিটি প্রাইভেট ওয়ার্ডের বেডেও ভেন্টিলেশন মনিটরিং সিস্টেম রেখেছেন, যা সাধারণত আইসিইউতে থাকে। তিনি আরও যোগ করেন, “এখানে কোনও গোপন চার্জ নেই। গরিব ও অসহায় রোগীরা যাতে নামমাত্র মূল্যে বিশ্বমানের ডায়াগনোসিস ও চিকিৎসা পান, আমরা সেই ব্যবস্থা করেছি।”
পিআইএমএস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, বাংলাদেশ সরকার চাইলে তারা এদেশের চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক মানের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করবে, যাতে তারা দেশে ফিরে আরও দক্ষ সেবা দিতে পারেন। এমনকি বাংলাদেশি চিকিৎসকরা চাইলে রাজস্থানের এই হাসপাতালে কাজ করার সুযোগও পাবেন।
ক্যানসার চিকিৎসায় আধুনিক গবেষণা ও প্রযুক্তি
বেসরকারি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকায় পিআইএমএস-এ নিয়মিত আধুনিক গবেষণা চলে। বিশেষ করে ক্যানসার সার্জারিতে ‘টিউমার ম্যাপিং’ এবং ‘মিনিমালি ইনভেসিভ টেকনিক’ ব্যবহার করা হয়, যা রোগীর দ্রুত সুস্থতা নিশ্চিত করে।
হাসপাতালের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ম্যানেজার অনিতা রায় বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো সীমান্ত ছাড়িয়ে মানুষের সেবা করা। আমরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী।” সংবাদ সম্মেলনে রাজস্থানের এই শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে আধুনিক মডুলার অপারেশন থিয়েটার এবং সার্বক্ষণিক ক্রিটিক্যাল কেয়ার সাপোর্টের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাশাপাশি হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, বিশেষ করে হাম ও ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের চিকিৎসায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে।



