হামে শিশুর মৃত্যু: মানসিক রোগী পিতার পরিবারে শোকের ছায়া
হামে শিশুর মৃত্যু, মানসিক রোগী পিতার পরিবারে শোক

হামের আক্রমণে শিশুর মৃত্যু: একটি পরিবারের করুণ কাহিনী

বিয়ের চার বছর অপেক্ষার পর প্রথম সন্তানের মুখ দেখেছিলেন মাহবুর রহমান ও আতিকা খাতুন দম্পতি। কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি। মাত্র ছয় মাস বয়সেই তাদের শিশুসন্তান আব্দুর রহমান সংক্রামক রোগ হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবারটিতে এখন শোকের ছায়া নেমেছে।

শিশুটির চিকিৎসা ও মৃত্যুর বিবরণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাজারামপুর গ্রামের বাসিন্দা এই দম্পতির শিশুটি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের শিশুদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (পিআইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে মারা যায়। সকালেই শিশুটির মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়েছে।

স্বজনদের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথম রোজার দিন শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন হামের লক্ষণ দেখা যায়নি। তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর গত ১০ মার্চ সে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং শরীরে হাম দেখা দেয়। ১২ মার্চ তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে শিশুটিকে পিআইসিইউতে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পারিবারিক পটভূমি ও সংগ্রাম

মাহবুর রহমান একজন মানসিক রোগী, যিনি নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করলে কিছুটা ভালো থাকেন এবং বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেন। চিকিৎসা বন্ধ হলে তার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। দীর্ঘ চার বছর অপেক্ষার পর অনেক চিকিৎসার মাধ্যমে আতিকা খাতুন প্রথম সন্তানের মা হন, যা তাদের জন্য অপরিসীম আনন্দ বয়ে আনে। কিন্তু শিশুর মৃত্যু এখন তাদের জন্য অসহ্য বেদনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মাহবুর রহমানের বোন শারমিন খাতুন জানান, শিশুটির চিকিৎসার জন্য গরিব পরিবার হয়েও প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করা হয়েছে। মাহবুরের মানসিক অবস্থার কারণে অনেকে সাহায্য করেছেন, এবং কিছু ধারদেনাও হয়েছে। তিনি বলেন, "বাচ্চাটা বেঁচে থাকলে আমাদের কোনও দুঃখ থাকতো না।" আতিকা খাতুন এখন শিশুর মৃত্যু মানতে না পেরে পাগলপ্রায় অবস্থায় রয়েছেন।

হাসপাতালের পরিস্থিতি ও হামের প্রাদুর্ভাব

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ শংকর কুমার বিশ্বাসের তথ্য অনুসারে, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১৩২ শিশু ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত হাম নিয়ে ৩৪০ শিশু হাসপাতালে ভর্তি আছে, এবং গত ২৪ ঘণ্টায় চার শিশুকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

বুধবার রাত পর্যন্ত হাসপাতালে ৫৬ শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) অপেক্ষায় ছিল, যারা সবাই হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি। এই চাপ সামলাতে আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ১২টি থেকে ১৮টি করা হয়েছে, এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের আইসিইউ ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনা হামের মতো সংক্রামক রোগের ভয়াবহতা এবং দরিদ্র ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় জর্জরিত পরিবারগুলোর জন্য চিকিৎসা সেবার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।