বিয়েবাড়িতে সাউন্ড বক্স নিয়ে সংঘাতে আহত কৃষকের মৃত্যু, ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
সাউন্ড বক্স নিয়ে সংঘাতে কৃষকের মৃত্যু, হত্যা মামলা

বিয়েবাড়িতে সাউন্ড বক্স নিয়ে সংঘাতে আহত কৃষকের মৃত্যু

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে সাউন্ড বক্স বাজানোকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের সাথে সংঘাতে আহত কৃষক ইদ্রিস আলী ওরফে ইজ্জত আলী শেখ (৫৬) মারা গেছেন। লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় ১০ দিন পর বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণ

ঘটনাটি ঘটেছে কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের গোল্লারটেক এলাকার সম্মানীপাড়া কাদেরের বাড়িসংলগ্ন রাস্তায়। নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২৩ মার্চ রাতে প্রতিবেশী কাদেরের মেয়ে ময়না আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে সাউন্ড বক্স বাজানো নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরদিন ২৪ মার্চ সকালে ইজ্জত আলীর নাতনি সিনহার সঙ্গে প্রতিবেশী হালিমের ৮ বছর বয়সী ছেলে রাব্বির ঝগড়া হয়।

এই ঝগড়া কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘাতের সৃষ্টি হয়। পরে একপর্যায়ে প্রতিবেশী হালিম বাগমার, শরিফ, মারুফ, ইতি আক্তার, শাকিল খরাদী তার ভাই ইমন, শাহীনসহ হারুন, ফয়সাল ও সাইফুল দেশীয় অস্ত্র লাঠি নিয়ে ইজ্জত আলীকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। তাতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসা ও মৃত্যু

ইজ্জত আলীর পরিবারের লোকজন তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখে তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে ৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার অবস্থার আরও অবনতি হয় এবং তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মারা যান। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৮টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা ও দাবি

এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহতের পরিবারের সদস্যরা, যার মধ্যে তার মেয়ে শিউলি, নিপা, লিজা ও মা সেলিনা বেগম রয়েছেন, তারা হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতারসহ ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।

অপরদিকে, মৃত্যুর খবর পেয়ে অভিযুক্তরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন ঘটনা স্বীকার করে বলেন, "নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।"

এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, এবং কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি উঠছে।