ময়মনসিংহে হামের প্রাদুর্ভাব: ২৪ ঘণ্টায় ২১ শিশু ভর্তি, মোট আক্রান্ত ১৪৩
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ২১টি শিশু ভর্তি হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত এই শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাদের হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ মেডিকেলে গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ১৪৩টি শিশু। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫ শিশুর। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৬৪টি শিশু। অন্যদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, "হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য গত সোমবার হাসপাতালের ৮ তলার কেবিন এলাকায় ৬৪ শয্যার একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সেখানে তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২১টি শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।"
টিকা সংকট ও আক্রান্তদের বয়স
জেলার সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ফয়সল আহমেদ জানান, জনসংখ্যার তুলনায় ময়মনসিংহে যা আক্রান্ত আছে, সেটা ততটা বেশি নয়। হামে আক্রান্ত শিশুদের ৮০ শতাংশই ৯ মাসের নিচে বয়স। তাদের হামের টিকা নেওয়ারই সময় হয়নি এখনো। বাকি শিশুদের মধ্যে ১০ শতাংশ আছে ১ ডোজপ্রাপ্ত এবং বাকি ১০ শতাংশ ২ ডোজপ্রাপ্ত।
গত বছর থেকেই বিভিন্ন ধরনের টিকার সংকট রয়েছে জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন বলেন, "বর্তমানে হাম ও বিসিজি ছাড়া আর কোনো টিকা নেই। বাকি কোনো টিকাও মজুত নেই। আমরা সেগুলোর চাহিদা পাঠিয়েছি। উপজেলায় কোনো টিকা আছে, কোনো টিকা নেই—এমন অবস্থা। গত বছর অনেকটা সময় ধরে হামের টিকা ছিল না। এ ছাড়া স্বাস্থ্য সহকারীরা কয়েক মাস স্ট্রাইক করে টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করেনি। ওই সময় টিকার সেবা থেকে বঞ্চিত হয় মানুষ। গত বছরের পরিস্থিতির ফলাফল বর্তমান অবস্থা। পরিস্থিতি সামলাতে ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।"
চিকিৎসা ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নতুন আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করে চিকিৎসা সেবা জোরদার করেছে। তিনটি মেডিকেল টিম নিয়মিতভাবে রোগীদের দেখাশোনা করছে। তবে টিকা সংকটের কারণে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রয়ে গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে দ্রুত টিকা সরবরাহের জন্য চেষ্টা চলছে বলে জানানো হয়েছে।
এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জনগণকে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে শিশুদের টিকা দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।



