ময়মনসিংহে হামের প্রাদুর্ভাব: আইসোলেশন ওয়ার্ডে শিশুদের চিকিৎসা চলছে
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের চিকিৎসা চলছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালে ঘুরে দেখা গেছে, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা শিশুসন্তানদের নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। শিশুদের নেবুলাইজ করা হচ্ছে এবং অনেককে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে।
শিশুদের অবস্থা ও অভিভাবকদের উদ্বেগ
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা থেকে তিন মাস বয়সী সাহালকে নিয়ে নূরানী বেগম গত ২৮ মার্চ রাতে হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি বলেন, ‘আমার সন্তানের হামের টিকা দেওয়ার বয়স হয়নি, তার কেন হাম হলো?’ অন্যদিকে, গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে সাত মাস বয়সী আয়ানকে নিয়ে সাজেদা বেগম ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রথমে ঠান্ডাকাশি ছিল, পরে হাম বের হয়। এখন ছেলেকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারি না, খিঁচুনি হয়।’
রোগীর পরিসংখ্যান ও ভৌগোলিক বণ্টন
মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৮৭টি শিশু ভর্তি ছিল। তাদের মধ্যে ৬৪ জন ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা, যা মোট রোগীর প্রায় ৭৩ শতাংশ। বাকি রোগীরা জামালপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সুনামগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে এসেছেন। ময়মনসিংহের সদর উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে ২৫ জন রোগী ভর্তি, যা হামের লক্ষণযুক্ত রোগীদের প্রায় ৩৯ শতাংশ।
হাম শনাক্তকরণ ও মৃত্যুর তথ্য
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি চিকিৎসক মো. গোলাম মোত্তাকীন জানান, ১৭ মার্চ থেকে গত সোমবার পর্যন্ত ১২২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে ৪৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত শিশুদের ৮২ শতাংশ ময়মনসিংহ জেলার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে রোগী বাড়তে শুরু করে, এবং ১৭ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১৩১ জন ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর চারটি ঘটনা নমুনা সংগ্রহ আগেই ঘটে।
টিকার অবস্থা ও সম্ভাব্য কারণ
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮৭ শিশুর মধ্যে শূন্য থেকে ৯ মাস বয়সী শিশুর হার প্রায় ৫৯ শতাংশ, যাদের হামের টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি। দেশে হামের টিকা সাধারণত ৯ মাস বয়সে দেওয়া হয়। সহকারী রেজিস্ট্রার মো. মাজহারুল আমিন বলেন, ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের হাম হওয়ার কারণ হতে পারে মায়ের কাছ থেকে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি না পাওয়া বা পর্যাপ্ত বুকের দুধ না খাওয়া। ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ফয়সল আহ্মেদ উল্লেখ করেন, গত বছর থেকে টিকার সংকট রয়েছে, এবং বর্তমানে হাম ও বিসিজি ছাড়া অন্য টিকা মজুত নেই।
চলমান প্রস্তুতি ও সতর্কতা
পরিস্থিতি সামলাতে ইতিমধ্যে উপজেলাগুলোতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, মানুষের ঘনত্ব বেশি থাকায় এবং টিকার বয়স না হওয়া শিশুদের সংস্পর্শে আক্রান্তরা আসায় সংক্রমণ বাড়ছে। আবহাওয়াগত কারণও ভূমিকা রাখতে পারে। হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি রোগীদের ৮০-৯০ শতাংশ শরীরের র্যাশ, জ্বর, কাশি, চোখ দিয়ে পানি পড়া ও মুখে ঘায়ের সমস্যা নিয়ে আসছে।



