দেশের অধিকাংশ হাসপাতাল ও ক্লিনিক নির্ধারিত বিল্ডিং কোড এবং স্বাস্থ্যসেবা–সংক্রান্ত অবকাঠামোগত মানদণ্ড পুরোপুরি মেনে পরিচালিত হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। আজ বুধবার রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে আবারও সামনে এসেছে হাসপাতালগুলোর অবকাঠামোগত নিরাপত্তা ও মান নিয়ে প্রশ্ন।
নগর পরিকল্পনাবিদের বক্তব্য
নগর পরিকল্পনাবিদ আখতার মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রত্যেক ভবনের ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী তার নকশা হওয়া উচিত। একটি স্কুলের নকশা যেমন স্কুলের উপযোগী হবে, তেমনি হাসপাতাল বা ক্লিনিকের ভবনও স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন অনুযায়ী নির্মাণ করতে হবে। কারণ, এগুলো বিশেষায়িত সেবার জায়গা।
তিনি বলেন, হাসপাতালের করিডর, রোগী চলাচলের ব্যবস্থা, লিফট, সিঁড়ি, জরুরি নির্গমন পথ, কক্ষের বিন্যাস; সবকিছুই নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী হওয়া জরুরি। কারণ, হাসপাতাল একটি জনসেবামূলক ও উচ্চঝুঁকিপূর্ণ স্থান। এ জন্য বিল্ডিং কোড ও স্পষ্ট নকশাগত নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো মানা হয় না।
আবাসিক ভবনকে হাসপাতালে রূপান্তর
আখতার মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে প্রায়ই দেখা যায়, আবাসিক ভবনকে রূপান্তর করে ক্লিনিক বা হাসপাতাল বানানো হচ্ছে। অথচ ওই ভবন স্বাস্থ্যসেবার জন্য পরিকল্পিত নয়। মূল সমস্যাটা এখানেই।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবার জন্য নির্মিত ভবন যেন স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা ও নিরাপত্তাকে সামনে রেখে নকশা করা হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে রোগী ও সেবাদান—উভয় ক্ষেত্রেই ঝুঁকি তৈরি হয়।
বেসরকারি বিনিয়োগ ও মুনাফার প্রবণতা
স্বাস্থ্য খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই নগর পরিকল্পনাবিদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা এখন অনেকাংশেই চিকিৎসানির্ভর পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় নয়। সরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দিকে যাচ্ছে।
তাঁর মতে, বেসরকারি অনেক হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মূলত লাভকেন্দ্রিক চিন্তায় পরিচালিত হয়। কম বিনিয়োগে কীভাবে বেশি মুনাফা করা যায়, সেই প্রবণতা থেকেই অনেক সময় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বা অবকাঠামোগত নির্দেশনা উপেক্ষা করা হয়। কম জায়গায় বেশি রোগী, বেশি চিকিৎসক বা বেশি সেবা বসানো গেলেই তাদের লাভ বাড়ে।
আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন প্রসঙ্গ
তবে আলোচনায় আসা আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ অর্থে ব্যক্তিমালিকানাধীন বাণিজ্যিক হাসপাতাল নয়। এটি একটি অলাভজনক দাতব্য সংস্থা, যার অধীনে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল পরিচালিত হয়।
ফাউন্ডেশনটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দীন। ১৯৮০ সালে আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আকিজ উদ্দীন এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেনের যৌথ উদ্যোগে আদ-দ্বীন কার্যক্রমের শুরু হয়।



