পৌরনীতি ও নাগরিকতা: একনায়কতন্ত্র, গণতন্ত্র, যুক্তরাষ্ট্র ও কল্যাণ রাষ্ট্রের প্রশ্নোত্তর
পৌরনীতি ও নাগরিকতা: প্রশ্নোত্তর পর্ব

পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর নিচে তুলে ধরা হলো।

একনায়কতন্ত্রকে চরম স্বেচ্ছাচারী শাসনব্যবস্থা বলা হয় কেন?

একনায়কতন্ত্র এক ধরনের স্বেচ্ছাচারী শাসনব্যবস্থা। কারণ, একনায়ককে কারও কাছে জবাবদিহি করতে হয় না। তার কথাই আইন। এতে ব্যক্তির স্বাধীন চিন্তা ও মুক্তবুদ্ধিচর্চার সুযোগ নেই। এ ব্যবস্থা নাগরিকের মৌলিক অধিকার খর্ব করে বলে একে স্বেচ্ছাচারী শাসনব্যবস্থা বলা হয়।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কী?

যে শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা সমাজের সব সদস্য তথা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে, তাকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে। এটি এমন এক রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে শাসনকাজে জনগণ অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সবাই মিলে সরকার গঠন করে। এটি জনগণের অংশগ্রহণে, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের স্বার্থে পরিচালিত একটি শাসনব্যবস্থা। এতে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় অর্থাৎ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হয়। বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ইত্যাদিসহ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুক্তরাষ্ট্র বলতে কী বোঝানো হয়?

যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের শাসনকাজের সুবিধার জন্য সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্র ও প্রদেশ বা অঞ্চলের মধ্যে ক্ষমতার বণ্টন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে পাশাপাশি অবস্থিত কতকগুলো ক্ষুদ্র রাষ্ট্র একত্র হয়ে একটি বড় রাষ্ট্র গঠন করে বলে রাষ্ট্রটি শক্তিশালী হয়। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকার সম্পদ আহরণ করে একটি বৃহৎ অর্থনীতি গঠনপূর্বক রাষ্ট্রকে উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও একটি যুক্তরাষ্ট্র।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?

যে রাষ্ট্র জনগণের দৈনন্দিন ন্যূনতম চাহিদা পূরণের জন্য কাজ করে, তাকেই কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলা হয়। এ ধরনের রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য কর্মের সুযোগ সৃষ্টি করে, বেকার ভাতা প্রদান করে, বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। সচ্ছলদের ওপর উচ্চ হারে ও অসচ্ছলদের ওপর কম কর ধার্য করে গরিব ও দুস্থদের সাহায্য ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে। কৃষক, শ্রমিক ও মজুরদের স্বার্থরক্ষার জন্য ন্যূনতম মজুরির ব্যবস্থা করে তাঁদের জীবনযাত্রার মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করে। সমবায় সমিতি গঠন ও শ্রমিক কল্যাণ সমিতি গঠন করে কৃষক, শ্রমিক ও মজুরদের স্বার্থ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগপদ্ধতির পার্থক্য

বাংলাদেশের শাসন বিভাগের সর্বোচ্চ ব্যক্তি হলেন রাষ্ট্রপতি। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান। তবে তিনি নামমাত্র প্রধান। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে তিনি রাষ্ট্রের সব কাজ পরিচালনা করেন। তিনি জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে নির্বাচিত হন। তাঁর মেয়াদ পাঁচ বছর। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার কেন্দ্রবিন্দু ও সরকারপ্রধান। তাঁকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের শাসনকার্য পরিচালিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা দেশের প্রকৃত শাসক। জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের আস্থাভাজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। তাঁর কার্যকাল পাঁচ বছর।

মন্ত্রিপরিষদের গঠন

সরকার পরিচালনার জন্য দেশে একটি মন্ত্রিপরিষদ আছে। প্রধানমন্ত্রী এর নেতা। তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীকে নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন। মন্ত্রিপরিষদের মন্ত্রীরা সাধারণত সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নিযুক্ত হন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য, কিন্তু সংসদ সদস্য নন, এমন ব্যক্তিও মন্ত্রী নিযুক্ত হতে পারেন। তবে তার সংখ্যা মন্ত্রিপরিষদের মোট সদস্যসংখ্যার এক-দশমাংশের বেশি হবে না। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করেন। মন্ত্রিসভার সদস্যরা একক ও যৌথভাবে সংসদের কাছে দায়ী থেকে দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে বা কোনো কারণে সংসদ ভেঙে গেলে মন্ত্রিসভাও ভেঙে যায়। প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছা করলে মন্ত্রিসভার যেকোনো মন্ত্রীকে পরিবর্তন করতে পারেন। আবার যেকোনো মন্ত্রী ইচ্ছা করলে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে পারেন। মন্ত্রিপরিষদের মেয়াদ পাঁচ বছর।

মিজানুর রহমান, শিক্ষক, ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, ঢাকা