মূলধনজাতীয় লেনদেন কাকে বলে?
যেসব লেনদেন হতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থাৎ এক বছরের অধিক সময়ের জন্য সুবিধা লাভ করা যায়, যার টাকার অঙ্ক সাধারণত বড় এবং যা নিয়মিত সংঘটিত হয় না, তাকে মূলধনজাতীয় লেনদেন বলে। যেমন: ব্যবসায়িক প্রয়োজনে দালানকোঠা ক্রয়, আসবাবপত্র ক্রয় কিংবা প্রাথমিক মূলধন আনয়ন।
বিলম্বিত মুনাফাজাতীয় ব্যয় কাকে বলে?
মুনাফাজাতীয় হওয়া সত্ত্বেও নির্দিষ্ট হিসাব বছরের সীমাবদ্ধ না থেকে একাধিক বছরগুলোয় সুবিধা পাওয়া যায় এই ব্যয়কে বিলম্বিত মুনাফাজাতীয় ব্যয় বলা হয়। যেহেতু এই ব্যয়ের দ্বারা একাধিক বছর সুবিধা ভোগ করা যায়, তাই এই ব্যয়কে হিসাবকালগুলোর মাঝে বিভক্ত করে, চলতি হিসাবকালের অংশটুকু মুনাফাজাতীয় ব্যয়ের ন্যায় এবং অবশিষ্ট অংশ সাময়িকভাবে মূলধনজাতীয় ব্যয়ের ন্যায় লিপিবদ্ধ করা হয়।
মুনাফাজাতীয় প্রদান বলতে কী বোঝায়?
ব্যবসায়ের দৈনন্দিন কার্য সম্পাদনের জন্য নিয়মিত যেসব ব্যয় নির্দিষ্ট সময় পরপর সংঘটিত হয় এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই উপযোগিতা নিঃশেষ হয়ে যায়, তাকে মুনাফাজাতীয় প্রদান বলে। মুনাফাজাতীয় প্রদান ও ব্যয় একই অর্থবোধক মনে হলেও কিছুটা পার্থক্য বিদ্যমান। মুনাফাজাতীয় ব্যয়, মুনাফাজাতীয় প্রদানেরই একটি অংশ।
মূলধনজাতীয় ব্যয় কাকে বলে?
যেসব ব্যয় অনিয়মিত, টাকার পরিমাণ বড় এবং এক বছরের অধিক সময় সুবিধা ভোগ করা যায়, সেই সব ব্যয়ই মূলধনজাতীয় ব্যয়। যেমন জমি, আসবাবপত্র, মোটরযান প্রভৃতি স্থায়ী সম্পদ ক্রয় ও এদের আমদানি শুল্ক, জাহাজভাড়া, পরিবহন খরচ ইত্যাদি।
মুনাফাজাতীয় লেনদেন কাকে বলে?
যেসব লেনদেন থেকে স্বল্পমেয়াদি সুবিধা পাওয়া যায়, লেনদেনের টাকার অঙ্কের পরিমাণ অপেক্ষাকৃত ছোট কিন্তু নিয়মিত সংঘটিত হয়, তা মুনাফাজাতীয় লেনদেন। যথা পণ্য বিক্রয়, বিনিয়োগের সুদ, বেতন, ভাড়া, ঋণের সুদ মুনাফাজাতীয় লেনদেন।
মূলধনজাতীয় প্রাপ্তি বলতে কী বোঝায়?
যেসব প্রাপ্তি অনিয়মিত, টাকার পরিমাণ বড় এবং এক বছরের বেশি সময় সুবিধা ভোগ করা যায়, তাই মূলধনজাতীয় প্রাপ্তি। ঋণ গ্রহণ, পুরাতন যন্ত্রপাতি বিক্রয় মূলধনজাতীয় প্রাপ্তি।
মুনাফাজাতীয় আয় বলতে কী বোঝায়?
মুনাফাজাতীয় প্রাপ্তির চলতি হিসাবকালের অংশটুকু মুনাফাজাতীয় আয়। মুনাফাজাতীয় প্রাপ্তি সবটুকুই মুনাফাজাতীয় আয় হয় না। উদাহরণস্বরূপ, প্রাপ্ত বাড়িভাড়া ৫০,০০০ টাকা, এর মধ্যে ২০২৪ সালের ১০,০০০ টাকা ও ২০২৫ সালের ২০,০০০ টাকা। তাহলে মুনাফাজাতীয় আয় হবে চলতি বছরের অংশটুকু অর্থাৎ ৫০,০০০ – (১০,০০০ + ২০,০০০) = ২০,০০০ টাকা চলতি বছরের মুনাফাজাতীয় আয়।
মূলধনজাতীয় ও মুনাফাজাতীয় লেনদেনের দুটি পার্থক্য
- মূলধনজাতীয় লেনদেন: দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা পাওয়া যায়। টাকার পরিমাণ সাধারণত বড় হয়।
- মুনাফাজাতীয় লেনদেন: স্বল্পমেয়াদি সুবিধা পাওয়া যায়। টাকার পরিমাণ সাধারণত ছোট হয়।
মুহাম্মদ আলী, সিনিয়র শিক্ষক, মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, ঢাকা।



