প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান মঙ্গলবার বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই করতে একটি জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধন করেছেন।
কর্মশালার বিবরণ
“বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই শ্রেষ্ঠত্বের রোডম্যাপ” শীর্ষক এই কর্মশালাটি সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে সকাল ১১টার দিকে কর্মশালাটি উদ্বোধন করেন এবং ভাষণ দেন।
অনুষ্ঠানটি পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়, এরপর অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের সম্মানে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
আয়োজন ও অংশগ্রহণ
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আয়োজনে উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ ইউজিসির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানকে একটি ক্রেস্ট উপহার দেন।
শিক্ষামন্ত্রী ড. এএনএম এহসানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। নীতিনির্ধারক, ইউজিসি সদস্য, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, গবেষক, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, শিল্প প্রতিনিধি এবং অন্যান্য অংশীজনরা কর্মশালায় অংশ নেন।
প্রযুক্তিগত অধিবেশন
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর পাঁচটি প্রযুক্তিগত অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনার বিষয়বস্তু হবে: স্নাতকদের কর্মসংস্থানযোগ্যতা, নরম দক্ষতা ও চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা; শিল্প-একাডেমি সহযোগিতা ও বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতাসক্ষমতা; ডিজিটাল রূপান্তর, ডিজিটাল সাক্ষরতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একীকরণ; শিক্ষক উন্নয়ন, গবেষণা শ্রেষ্ঠত্ব ও আন্তর্জাতিকীকরণ; এবং শাসন, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও প্রতিষ্ঠানিক সংস্কার।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ইউজিসি জানিয়েছে, কর্মশালার সুপারিশগুলি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার উন্নতির জন্য একটি কার্যকর নীতি রোডম্যাপ প্রণয়নে সহায়তা করবে। কমিশন বলেছে, কর্মশালাটি উচ্চশিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতাসক্ষম দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি উচ্চশিক্ষা খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নীতি নির্ধারণে সরকারকে সহায়তা করবে।



