বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে দুর্বল করে রাখা মানে দেশের ভবিষ্যৎকেই দুর্বল করা। কারণ, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। তাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নীতির অস্থিরতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। মানসম্মত শিক্ষা ও শিক্ষার্থীর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে।
উদ্যোক্তাদের দাবি
অনুষ্ঠানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তারা একগুচ্ছ দাবি উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ‘একাডেমিক ফ্রিডম’, পিএইচডির সুবিধা, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি (সদস্য) রাখা, শিল্পকারখানার সঙ্গে পড়াশোনার সংযোগ স্থাপন ও ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করা, এবং ইউজিসিতে ৩০ দিনের মধ্যে ফাইল নিষ্পত্তি করা।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিমাত্রায় মনিটরিংয়ের বিপক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, ‘এভাবে যদি সিরিয়াসলি মনিটরিং করতে থাকি, আর রেড ট্যাগ লাগাতে থাকি, তাহলে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগামী দিনে কাজ করতে পারবে না।’ তবে তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতার পক্ষে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করে সতর্ক করেন যে এমন ফ্রিডম দেওয়া হবে না, যাতে আবার হোলি আর্টিজানের মতো ঘটনা ঘটে।
কমিটি গঠনের প্রতিশ্রুতি
উদ্যোক্তাদের দাবি ও প্রস্তাবের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসব বিষয়ে কমিটি করে দেওয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক ইউজিসিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি রাখার পক্ষে মত দেন।
অন্যান্য বক্তা
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, ইউজিসির চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সেক্রেটারি জেনারেল ইশতিয়াক আবেদিন প্রমুখ।



