দিনের শুরুতে শরীরে শক্তি ভালোই থাকে, কিন্তু সেই শক্তি কতক্ষণ টিকে থাকবে তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি কী খাচ্ছেন তার ওপর। এমন অনেক খাবার আছে, যা খাওয়ার পরপরই শক্তি বাড়ায় বলে মনে হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই ক্লান্তি ও অবসাদ ডেকে আনে। পুষ্টিবিদদের মতে, দিনের মাঝামাঝি হঠাৎ শক্তি কমে যাওয়া বা বারবার ক্লান্ত লাগার পেছনে এসব খাবারের ভূমিকা থাকতে পারে।
ক্লান্তি বাড়ায় এমন ৫ খাবার
কিছু খাবার দেখতে নিরীহ হলেও এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে আবার কমিয়ে দেয়, কিংবা হজমে বেশি সময় ও শক্তি নেয়—ফলে শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে। নিচে এমন ৫টি খাবারের কথা তুলে ধরা হলো—
১. ফলের রস
ফলের রস অনেকেই স্বাস্থ্যকর ভাবলেও এতে ফাইবার না থাকায় চিনি দ্রুত রক্তে মিশে যায়। এতে হঠাৎ শক্তি বাড়লেও কিছুক্ষণ পরই তা কমে গিয়ে ক্লান্তি অনুভূত হয়। তাই জুসের বদলে আস্ত ফল খাওয়াই ভালো, যা দীর্ঘস্থায়ী শক্তি দেয়।
২. অতিরিক্ত ক্যাফেইন
চা বা কফি সাময়িকভাবে সতেজতা এনে দিলেও বেশি মাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণ করলে তা শরীরের স্বাভাবিক শক্তির ছন্দ নষ্ট করতে পারে। এতে নির্ভরতা তৈরি হয় এবং দিনের শেষে ক্লান্তি আরও বাড়ে। তাই সীমিত পরিমাণে—দিনে এক-দুই কাপ—খাওয়াই উত্তম।
৩. ভারী কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার
ক্রিমি পাস্তা বা বেশি সাদা ভাত খেলে হজমে শরীরকে বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়। ফলে খাওয়ার পর ঘুমঘুম ভাব বা অলসতা দেখা দেয়, যাকে অনেকেই ‘ফুড কোমা’ বলেন। এসব খাবারে ফাইবার ও প্রোটিন কম থাকায় শক্তি দ্রুত কমে যায়।
৪. চিনিমুক্ত এনার্জি ড্রিংকস
চিনি না থাকলেও এসব পানীয়তে কৃত্রিম মিষ্টি ও উত্তেজক উপাদান থাকে, যা শরীরের স্বাভাবিক বিপাক ও ঘুমের ধরণে প্রভাব ফেলতে পারে। সাময়িক শক্তি দিলেও পরে ক্লান্তি ও অস্থিরতা তৈরি করে। এর বদলে প্রাকৃতিক পানীয়, যেমন ডাবের পানি, বেশি উপকারী।
৫. বিস্কুট ও প্রক্রিয়াজাত নাস্তা
বিস্কুট সাধারণত পরিশোধিত ময়দা ও চিনি দিয়ে তৈরি হওয়ায় দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়ায় এবং দ্রুতই কমিয়ে দেয়। এতে অল্প সময়ের শক্তি মিললেও তা স্থায়ী হয় না। তাই এমন নাস্তার বদলে পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাবার বেছে নেওয়া ভালো।
সুস্থ ও সক্রিয় থাকতে চাইলে খাবারের ক্ষেত্রে সচেতন হওয়া জরুরি। সঠিক খাদ্যাভ্যাসই দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি ধরে রাখতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।



