নান্দাইলে খাতা দেখে লিখতে না দেওয়ায় ৩ পরীক্ষার্থীকে মারধর
নান্দাইলে খাতা দেখে লিখতে না দেওয়ায় ৩ পরীক্ষার্থীকে মারধর

ময়মনসিংহের নান্দাইলে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় খাতা দেখে লিখতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তিন পরীক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে উপজেলার নান্দাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিবরণ

জানা গেছে, নান্দাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে চন্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বীরকামটখালী জেবি উচ্চ বিদ্যালয় এবং খুররম খান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একই কক্ষে বসে পরীক্ষা দিচ্ছিল। মঙ্গলবার 'বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়' বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে চন্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন পরীক্ষার্থী অন্য দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খাতা দেখে লিখতে চায়। এতে আপত্তি জানালে কক্ষের ভেতরেই তাদের হুমকি দেওয়া হয়।

পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পথে চন্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন পরীক্ষার্থী বীরকামটখালী জেবি উচ্চ বিদ্যালয়ের আবু রায়হান ও আব্দুল মান্নান এবং খুররম খান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের আশরাফুল ইসলামকে মারধর করে। পরে সড়কেও তাদের ওপর দ্বিতীয় দফা হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য

কেন্দ্র সচিব ও নান্দাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক জানান, আগের পরীক্ষার দিনও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা তার কাছে নিরাপত্তা চেয়েছিল। তিনি তাদের পরীক্ষা শেষে আলাদা করে অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন; কিন্তু নির্দেশনা অনুযায়ী বের হওয়ার পরও তারা হামলার শিকার হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। ঘটনাটি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বীরকামটখালী জেবি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাকিম বলেন, ইতোপূর্বে অনুষ্ঠিত পরীক্ষাগুলোতেও তারা আমাদের পরীক্ষার্থীদের খাতা টানাটানি করেছে। দেখতে না দিলে আমাদের পরীক্ষার্থীদের খাতায় লিখতে দেবে না বলেও হুমকি দিয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) পরীক্ষা শেষে কয়েকজন পরীক্ষার্থী এসে কান্নাকাটিও করেছে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন বলে জানান।

প্রশাসনের পদক্ষেপ

নান্দাইল মডেল থানার ওসি আজহারুল ইসলাম জানান, ঘটনা জানার পর পুলিশ পাঠানো হয় এবং পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।