নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া যুবদল নেতা শামীম মিয়াকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি এ সিদ্ধান্ত নেয়। শামীম মিয়া রূপগঞ্জ থানা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ এক ডজনের বেশি মামলা রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
সোমবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় পুলিশ শামীম মিয়াকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার অনুসারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
পুলিশের অভিযান ও গ্রেফতার
শামীম মিয়াকে ছিনিয়ে নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওই এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালায়। এ সময় শামীম মিয়ার স্ত্রী সাথী আক্তারসহ ১২ জনকে আটক করা হয়। রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, গ্রেফতারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ছিনিয়ে নেওয়া শামীমকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
যুবদলের বহিষ্কার
যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে শামীম মিয়াকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পেশিশক্তি প্রদর্শনপূর্বক রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বহিষ্কৃতদের কোনো অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না।
স্থানীয় পরিস্থিতি
চনপাড়া বস্তি এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বস্তিটির নামকরণ করা হয় চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে শামীম মিয়া এই বস্তি নিজের দখলে নেয় এবং মাদক কারবারের চ্যানেল তৈরি করে।
পুলিশের বক্তব্য
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতারের অংশ হিসেবে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। শামীম মিয়ার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার মতো এক ডজনের বেশি মামলা রয়েছে। রূপগঞ্জ থানার ওসি জানান, এই ঘটনায় এসআই ইউনুস আলী বাদী হয়ে ৪০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।



