ব্রিটিশ কারিকুলামে গ্লোবাল সিটিজেন গড়ে তোলার গুরুত্ব বাড়ছে
ব্রিটিশ কারিকুলামে গ্লোবাল সিটিজেন গড়ার গুরুত্ব

আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সন্তানকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে ব্রিটিশ কারিকুলাম বর্তমানে অভিভাবকদের অন্যতম প্রধান পছন্দ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, সৃজনশীল পাঠদানের পদ্ধতি এবং উচ্চশিক্ষায় এর গ্রহণযোগ্যতা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত করে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, গ্লোবাল সিটিজেন হিসেবে সন্তানকে গড়ে তুলতেই এই শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।

ব্রিটিশ কারিকুলামের বিশেষত্ব ও সুবিধা

ব্রিটিশ কারিকুলাম বা আইজিসিএসই এবং ‘এ’ লেভেল শিক্ষার্থীদের কেবল মুখস্থবিদ্যায় সীমাবদ্ধ রাখে না। এর মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীর বিশ্লেষণধর্মী দক্ষতা ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করা। কেমব্রিজ অ্যাসেসমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন (সিএআইই) অনুযায়ী, বিশ্বের ১৬০টির বেশি দেশে এই কারিকুলাম অনুসরণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই পাঠ্যক্রম প্রতিনিয়ত পরিমার্জন করা হয়। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এমনভাবে তৈরি করা হয়, যা শিক্ষার্থীর বিষয়ের ওপর গভীরতা ও প্রায়োগিক জ্ঞান যাচাই করে। এ ছাড়া সায়েন্স, কমার্স কিংবা হিউম্যানিটিজের প্রথাগত নিয়মের বাইরেও শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দমতো বিভিন্ন বিষয়ের সংমিশ্রণে পড়াশোনা করার সুযোগ পায়।

এ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ কাউন্সিলের হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট (স্কুলস, ইংলিশ অ্যান্ড এক্সামিনেশনস) জুবায়ের নাঈম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিশ্বমান এবং স্থানীয় মেধার মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে ব্রিটিশ কাউন্সিল। বাংলাদেশে যেসব আন্তর্জাতিক ব্রিটিশ ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর গুণগত মান ও কঠোরতা লন্ডন বা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ডিগ্রির সমান, তা আমরা নিশ্চিত করি। “গ্লোবাল সিটিজেন” হওয়ার মূল শর্তই হলো এমন একটি শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করা, যা বিশ্বের হাজারো বিশ্ববিদ্যালয় ও নিয়োগকর্তার কাছে স্বীকৃত। আমাদের তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা কেবল স্থানীয় পর্যায়ে নয়; বরং আন্তর্জাতিক যেকোনো পরিবেশে সাফল্যের সঙ্গে টিকে থাকার দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জন করছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উচ্চশিক্ষার বৈশ্বিক প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে ব্রিটিশ কারিকুলামের সার্টিফিকেট কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, হার্ভার্ড কিংবা এমআইটির মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’লেভেলের ফলাফলকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। অনেক ক্ষেত্রে ‘এ’ লেভেলের ভালো ফলের কারণে শিক্ষার্থীরা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের কিছু কোর্সে সরাসরি ক্রেডিট ছাড় পায়, যা উচ্চশিক্ষার সময় ও ব্যয়—উভয়ই কমিয়ে আনে।

জুবায়ের নাঈম আরও বলেন, ‘ব্রিটিশ কারিকুলামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি “কী শিখতে হবে” তার চেয়ে “কীভাবে শিখতে হবে”, সেটির ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়। প্রথাগত মুখস্থনির্ভর পদ্ধতির বদলে এই কারিকুলাম একজন শিক্ষার্থীর তথ্য বিশ্লেষণ, জটিল সমস্যার সমাধান এবং তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার ক্ষমতা যাচাই করে। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো ব্যবহারিক ল্যাব দক্ষতা অর্জন আর মানবিকের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো জোরালো যুক্তি তৈরি করতে শেখা। এই দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। এটি এমন গ্র্যাজুয়েট তৈরি করে, যারা কেবল পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত নয়; বরং যেকোনো কর্মক্ষেত্রে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম।’

বর্তমান যুগে নিয়োগকর্তারা ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা আবেগগত বুদ্ধিমত্তা এবং প্রায়োগিক সমস্যা সমাধানের দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দেন। এই শিক্ষাব্যবস্থা মূলত সেই গুণগুলো বিকাশের জন্যই বিশেষভাবে তৈরি বলে জানান জুবায়ের নাঈম।

ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগ ও বৈশ্বিক ক্ষেত্র

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘ফিউচার অব জবস’ রিপোর্টে যে ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং ও প্রবলেম সলভিং স্কিলের কথা বলা হয়েছে, ব্রিটিশ কারিকুলামের কাঠামো সে দক্ষতাগুলোকেই মূল্যায়ন করে। ব্রিটিশ কারিকুলামে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই উপস্থাপনা, দলীয় কাজ এবং নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলি অর্জন করে। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে পেশাগত জীবনে খাপ খাইয়ে নিতে এই কারিকুলামের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত থাকার ফলে শিক্ষার্থীরা বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত একটি শক্তিশালী পেশাদার নেটওয়ার্কের অংশ হওয়ার সুযোগ পায়।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতির সঠিক সময় শুরু হয় ‘ও’ লেভেল পর্যায় থেকেই। ব্রিটিশ কারিকুলাম শিক্ষার্থীদের এমনভাবে প্রস্তুত করে, যাতে তারা একাডেমিক পড়াশোনার সঙ্গে বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে। আইজিসিএসই পর্যায় থেকেই আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াড কিংবা বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকায় শিক্ষার্থীদের শক্তিশালী স্টুডেন্ট পোর্টফোলিও তৈরি হয়। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির আবেদনে এই অভিজ্ঞতাগুলো বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই প্রস্তুতি একজন শিক্ষার্থীকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার উপযোগী করে গড়ে তোলে।