জন্মদিনে অনেকেই ফিরে তাকান নিজের অর্জনের দিকে, কেউবা ভবিষ্যতের স্বপ্নের দিকে। তবে, নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী যেন ফিরে তাকালেন নিজের ভুল, লড়াই, বিতর্ক আর বিশ্বাসের দিকে। শনিবার (২ মে) নিজের জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থন করে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন ফারুকী। যাতে ফুটে উঠেছে তাঁর সাম্প্রতিক বিষন্নতাও।
জুলাই আন্দোলন ও বিতর্ক
জানালেন, জুলাই গণআন্দোলনে সমর্থন, সক্রিয়তা ও মন্ত্রীত্বে থাকাকালীন বিতর্কে জড়ানোর পর যেমন বন্ধু হারিয়েছেন, সংস্কৃতি অঙ্গনে তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীও কমেছে চোখে পড়ার মতো। যার কারণে শুভেচ্ছা বার্তাও কম পাচ্ছেন তিনি।
আত্মপক্ষ সমর্থনে ফারুকী
স্ট্যাটাসে আত্মপক্ষ সমর্থন করে ফারুকী লিখেছেন, “জীবন তো ভুলেরই পাঠশালা। কিন্তু সময় যদি আপনাকে সৌভাগ্যবান করে, সেই ভুল থেকে কিছু শিখতেও পারেন।” ভুল বা ঠিক, যাই হোক— জীবনে যখন যা সঠিক মনে করেছেন, সেটাই বলেছেন, সেটাই করেছেন। জনপ্রিয় হবেন কি না, সে হিসাব কখনো করেননি ফারুকী।
নিজের ক্যারিয়ারের শুরুটাও স্মরণ করেন তিনি। প্রচলিত চলচ্চিত্রভাষার বাইরে গিয়ে সংলাপে কথ্য ভাষার ব্যবহার, অভিনয়ে স্বাভাবিকতার চর্চা— সবকিছুই একসময় তাঁকে তীব্র সমালোচনার মুখে ফেলেছিল। তাঁর ভাষায়, “অভিনয় জিনিসটাকে শেষ করে দিচ্ছে ফারুকী”— সংস্কৃতি অঙ্গনের বটবৃক্ষদের মুখে এমন কথাও শুনতে হয়েছিল তাকে। কিন্তু তিনি ছিলেন ‘নিছক দূর্বাঘাস’, মাথা নিচু করে হেঁটে গেছেন আপন বিশ্বাসের পথে।
হারানো বন্ধু ও কৃতজ্ঞতা
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গে ফারুকী বলেন, “জুলাইয়ের পক্ষে দাঁড়াতে গিয়ে অনেক বন্ধু হারাইছি। আবার বন্ধুযোগও অনেক।” হারানো বন্ধুদের নিয়ে তাঁর কণ্ঠে নেই আক্ষেপ। তবে আবারও আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি বলেন, “হারানো বন্ধুদের জন্য একটা কথাই বলার আছে— সময়ের প্রয়োজনে প্রেমিকেরা হাসিমুখে বুক পেতে দিয়ে বলে, বুক পেতেছি, গুলি কর। আমি তো তাঁদের মতো সাহসী হইতে পারি নাই, তবে তাঁদের জয়গান আমার অক্ষম কণ্ঠে ধারণ করার চেষ্টা করছি।”
সবশেষে স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা, কন্যা, পরিবার, সহকর্মী, বন্ধু এবং দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তাঁর কথায়, “আমার সিনেমাগুলা আসলে আমার দর্শকের সাথে আমার কনভারসেশন। এই কনভারসেশন চলতেই থাকুক।”
সমালোচকদের দৃষ্টিভঙ্গি
সবমিলিয়ে, জন্মদিনের স্ট্যাটাসে ফারুকী নিজেকে তুলে ধরেছেন একজন আপসহীন শিল্পী হিসেবে। তবে সমালোচকদের চোখে, এটি বিতর্কের আবহে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যাখ্যার আরেকটি প্রয়াসও বটে। কারণ, জন্মদিন কখনো শুধু উদযাপনের নয়; কখনো কখনো আত্মপক্ষ সমর্থনেরও।



