উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার তৈরি করে শিক্ষা কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রবিবার (২৬ জানুয়ারি) 'বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬' উদযাপন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
গবেষণা ও উদ্ভাবনে উৎকর্ষের তাগিদ
কর্মশালায় গবেষণা ও উদ্ভাবনে উৎকর্ষ অর্জন এবং মেধাসম্পদ সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, ইউজিসি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। পাশাপাশি উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিতকরণ এবং মেধাসম্পদ সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে তিনি দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করারও পরামর্শ দিয়েছেন।
মেধাস্বত্ব ও পেটেন্ট বৃদ্ধিতে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি
এহছানুল হক মিলন বলেন, “গবেষকদের মেধাস্বত্ব ও পেটেন্টের সংখ্যা বৃদ্ধিতে সব ধরণের সহযোগিতা দেওয়া হবে। মেধাপাচার দেশের গবেষণা ও উন্নয়নের অন্যতম অন্তরায়। মেধাপাচার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এর পেছনের কারণগুলো খোঁজে বের করা প্রয়োজন।”
মন্ত্রী আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। মেধাস্বত্ব তৈরি ও সুরক্ষায় আমাদের কাজ করতে হবে। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন মেধাসম্পদ নিয়ে আলোচনা হয়, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা এবং পেটেন্টের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায় সেক্ষেত্রে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।”
গবেষকদের স্বীকৃতি ও মেধাসম্পদ বাণিজ্যিকীকরণ
এছাড়া, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ অর্জনকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদেরকে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে ইউজিসিকে আহ্বান জানান তিনি। এহছানুল হক মিলন বলেন, “বাংলাদেশের জনসংখ্যার অনুপাতে বিশ্ব মেধাসম্পদে আমাদের অংশীদারিত্ব একবারেই নগণ্য। গবেষণা ও উদ্ভাবনে কাজে যে পরিমাণ অগ্রগতি হওয়ার কথা সেটি প্রত্যাশিতভাবে হয়নি। মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ও মেধাসম্পদ বাণিজ্যিকীকরণ করা গেলে বাংলাদেশে নতুন দিগন্তে প্রবেশ করবে।”
ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম।



