যাত্রাবাড়ীতে প্রধান শিক্ষককে মারধর করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানো, থানায় মামলা
প্রধান শিক্ষককে মারধর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর, থানায় মামলা

যাত্রাবাড়ীতে প্রধান শিক্ষককে মারধর করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানো, থানায় মামলা

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় সবুজ বিদ্যাপীঠ স্কুল অ্যান্ড কলেজে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) এবিএম মিরাজুল ইসলামকে মারধর করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে স্কুলের অ্যাডহক কমিটির সভাপতির নামের তালিকাকে কেন্দ্র করে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর উত্তর যাত্রাবাড়ী এলাকার ১১-১২ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী সবুজ বিদ্যাপীঠ স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রবেশ করে। বিদ্যালয় অ্যাডহক কমিটির সভাপতির নামের তালিকায় তাদের পছন্দের নাম না থাকায় তারা প্রধান শিক্ষক এবিএম মিরাজুল ইসলামকে তার কক্ষে আটকিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে দেয়। এরপর তারা সিসি ক্যামেরা ভাংচুর করে এবং প্রধান শিক্ষককে চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুসিসহ বিভিন্ন কায়দায় মারধর করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়।

এ সময় অন্য শিক্ষকদেরও ধাক্কা ও হুমকি দিয়ে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। হামলাকারীরা প্রধান শিক্ষককে এ ঘটনা কাউকে না জানানো এবং পরিবার নিয়ে এলাকা ছাড়ার হুমকিও দেয়। ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক তার পরিবার নিয়ে এখন আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা দায়ের ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক এবিএম মিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে মজিবুর রহসান মধু, সাইফুল ইসলাম বাবু, তুহিন ইসলাম ও নয়নের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু সংবাদমাধ্যমকে জানান, সবুজ বিদ্যাপীঠ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অ্যাডহক কমিটির সভাপতির নামের তালিকাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা, জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর এবং হুমকির ঘটনায় প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, "তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এ ঘটনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক সমিতি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।