রমজান-ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে রবিবার খুলছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
রমজান ও ঈদুল ফিতরের প্রায় ৪০ দিনের দীর্ঘ ছুটি শেষে রবিবার থেকে খুলছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত সব প্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে ফিরছে শিক্ষার্থীরা। যদিও সরকারি ছুটি শেষ হয়েছে গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ), তবে সাপ্তাহিক শুক্র-শনিবারের ছুটির কারণে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হবে ২৯ মার্চ রবিবার থেকে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ও সংশোধিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এই দীর্ঘ ছুটি শুরু হয়েছিল ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে এবং তা অব্যাহত ছিল ২৬ মার্চ পর্যন্ত। এর আগে, ৮ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সভায় ইংরেজি মাধ্যমের সব স্কুলকে সরকার ঘোষিত রমজান ও ঈদের পুরো ছুটির সময় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে অনুষ্ঠিত ইংরেজি মাধ্যম স্কুল ও কোচিং সেন্টারের নীতিমালা প্রণয়ন বিষয়ক সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী এ এন এম এহসানুল হক মিলন।
শহরবাসীর অসুবিধা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা
দাপ্তরিক সূত্রে জানা গেছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় রমজান মাসে শহরবাসীর অসুবিধা, বিশেষ করে ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরের অবস্থা এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে। ছুটির সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র পূর্ব ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী বাধ্যতামূলক পরীক্ষা পরিচালনার অনুমতি পেয়েছিল।
এছাড়াও, একই সময়ে বাংলা ও ইংরেজি উভয় মাধ্যমের কোচিং সেন্টারের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়েও শ্রেণি কার্যক্রম পুনরায় শুরু
এদিকে, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়েও রবিবার থেকে একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে ৯ মার্চ থেকে সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত করেছিল, যা ঈদের ছুটির আগাম শুরুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৯ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত শ্রেণি ও পরীক্ষা স্থগিত ছিল।
শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিশেষ ব্যবস্থা
দীর্ঘ এই ছুটিতে শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো আগামী ১০টি শনিবার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করবে, যা সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটির দিন। এরই ধারাবাহিকতায় ৪ এপ্রিল শনিবারও শ্রেণি কার্যক্রম চলবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।



