মাদ্রাসার চারতলা থেকে পড়ে আহত ৮ম শ্রেণির ছাত্রী, ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি
মাদ্রাসার চারতলা থেকে পড়ে আহত ৮ম শ্রেণির ছাত্রী

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মটুয়া এলাকায় অবস্থিত উম্মে সালমা মহিলা মাদ্রাসার চারতলা ভবন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে অষ্টম শ্রেণির এক আবাসিক ছাত্রী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে কী কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ছাত্রীর নাম মাহমুদা আক্তার। তার বাড়ি ফুলগাজী উপজেলার দরবারপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের ইকবাল হোসেনের মেয়ে। গত ১ এপ্রিল তাকে মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণির আবাসিক ছাত্রী হিসেবে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই মাদ্রাসা ভবনের চারতলা থেকে নিচে পড়ে যায় ওই ছাত্রী। ঘটনাস্থলে থাকা সহপাঠী ও শিক্ষকেরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসক।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মায়ের বক্তব্য

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছাত্রীর মা রুনা আক্তার ফোনে জানান, তিনি মেয়ের সঙ্গে চট্টগ্রাম মেডিকেলে রয়েছেন। তার মেয়ের অবস্থা সংকটাপন্ন। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লেগেছে। চোখ খুলতে পারছে না। এখনো তিনি মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে পারেননি।

তিনি বলেন, কেন বা কীভাবে এমন ঘটনা ঘটলো, সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। আমি সোমবার বিকালে আমার একমাত্র মেয়েটাকে দেখতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম। সে আমাকে দেখে জড়িয়ে কান্না শুরু করে দেয় এবং বাড়ি নিয়ে যেতে বলে। সে কিছুতেই মাদ্রাসায় থাকবেনা। তার একজন সহপাঠী ছিল, সেও মাদ্রাসা থেকে চলে গেছে বলে আমাকে জানিয়েছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ছাত্রীর মা আরও বলেন, আমি মেয়ের মনের ভাব বুঝতে পারিনি। মাদ্রাসার হুজুর আমাকে বললেন, আপনি চলে যান। মেয়েরা মায়েদের দেখলে এমন করে। ম্যাডাম একজন ছিলেন, তিনিও আমাকে বকাঝকা দিয়ে চলে যেতে বললেন। তারা বলেছেন, আমি চলে গেলে মেয়েকে তালা দিয়ে রাখবেন। কিছুক্ষণ কান্না করে ঠিক হয়ে যাবে। আমি হুজুরদের কথামতো মেয়েকে ফাঁকি দিয়ে ফুলগাজীর মুন্সিরহাট চলে আসি। রাত ৮টার দিকে হুজুর আমাকে ফোন করে জানান, আমার মেয়ে এক্সিডেন্ট করেছে। দ্রুত ফেনী সদর হাসপাতালে আসতে বলেন। হাসপাতালে এসে দেখি আমার মেয়ে রক্তাক্ত, অজ্ঞান।

তিনি পুরো ঘটনার তদন্ত করে কারণ উদঘাটনের দাবি জানান।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ

ঘটনার পর মাদ্রাসা পরিচালক মেয়েকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে তার বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। ফোন বন্ধ ছিল।

এ বিষয়ে ছাগলনাইয়া থানার ওসি মো. শাহীন মিয়া জানান, তিনি ঘটনা শুনেছেন, তবে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।