দেশব্যাপী শুরু হলো এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা মঙ্গলবার সকাল থেকে সারাদেশে শুরু হয়েছে। বাংলা প্রথম পত্র দিয়ে শুরু হওয়া এই পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে।
পরীক্ষার বিস্তারিত তথ্য
সারা দেশের ৩,৮৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ৩০,৬৬৬টি স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র এবং ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী রয়েছেন।
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষার প্রথম দিনে কুরআন মাজিদ ও তাজবিদ পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা-২ (বৃত্তিমূলক) এবং দাখিল (বৃত্তিমূলক) পরীক্ষাও একই দিনে চলছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রস্তুতি
পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা ভোর থেকেই কেন্দ্রে আসতে শুরু করেন। রাজধানীর রাস্তায় যানজটের খবর পাওয়া গেছে। কিছু পরীক্ষার্থী সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা গেছে।
ঢাকা ও অন্যান্য এলাকার স্কুল প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অনেকে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বা সহপাঠীদের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করছিলেন। অভিভাবকেরাও মিশ্র অনুভূতি প্রকাশ করেছেন—উদ্বেগ ও আশা নিয়ে তারা পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
নিরাপত্তা ও তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো মোতায়েন করা হয়েছে। ডিজিটাল জালিয়াতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম ইহসানুল হক মিলন কঠোর নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, বিশেষ করে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার এবং ভুয়া তথ্য ছড়ানো রোধে।
বোর্ডভিত্তিক পরিসংখ্যান
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ও কেন্দ্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে তুলনামূলকভাবে কম কেন্দ্র রয়েছে। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনেও পরীক্ষা চলছে।
পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, সকল ব্যবস্থা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হবে।



