লেবাননভিত্তিক সংগঠন হিজবুল্লাহর প্রতি নিজেদের প্রকাশ্য সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান। ইরানের এই কঠোর অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তি বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ইরানের শর্ত কী?
তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো শান্তিচুক্তির প্রধান শর্ত হলো লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ ও সেনা প্রত্যাহার। চার মাস ধরে চলমান এই আঞ্চলিক যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, লেবাননে যুদ্ধ থামলেই কেবল এ সংঘাতের অবসান হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলকে লেবাননে দখল করা এলাকা থেকে সরে যেতে হবে।
হিজবুল্লাহর অবস্থান
হিজবুল্লাহর প্রধান নাইম কাশেম যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত একটি শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ওই চুক্তিতে সেনা প্রত্যাহারের শর্ত না থাকায় তিনি এটি মানতে নারাজ। অন্যদিকে ইসরায়েলও লেবানন থেকে সেনা সরাতে রাজি নয়।
আঞ্চলিক উত্তেজনা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননে শান্তির আশা প্রকাশ করলেও রণাঙ্গনে লড়াই থামেনি। গাজা, উত্তর ইসরায়েল ও কুয়েতেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও মার্কিন বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, এ সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকট আরও তীব্র হতে পারে।
পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে ট্রাম্প নির্ভার থাকলেও তেহরান তার রণকৌশল বদলায়নি। ইরানি সংসদ সদস্য হামিদ-রেজা হাজি বাবায়ি সতর্ক করে বলেন, ইরানের জন্য ‘সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক বোমা’ হলো হরমুজ প্রণালি।
সংঘাতের পটভূমি
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে গত মার্চের শুরুতে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়, যার ঠিক দুদিন আগে ইরানকে লক্ষ্য করে যৌথ হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হিজবুল্লাহর দাবি, তেহরানকে সমর্থন জানাতেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
লেবাননে চলমান সংঘাত থামাতে ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি চুক্তি হিজবুল্লাহ প্রত্যাখ্যান করে। ওই চুক্তিতে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো শর্ত ছিল না এবং হিজবুল্লাহও এ আলোচনার কোনো পক্ষ ছিল না।
সাম্প্রতিক ঘটনা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েনের মধ্যেই ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে। তেল আবিব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না এবং সেখানে তাদের সামরিক অভিযানও বন্ধ হবে না।
হিজবুল্লাহ গতকাল শুক্রবার জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে দুটি হামলা চালিয়েছে, যার একটি সম্প্রতি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া ঐতিহাসিক বোফোর্ট দুর্গের কাছাকাছি এলাকায়। লেবাননের নিরাপত্তাবাহিনী জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমানবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে।



