ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ এনসিপির বিরুদ্ধে
ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা, এনসিপির বিরুদ্ধে অভিযোগ

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ‘সমর্থন করায়’ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফ্ফার জিসানের গ্রামের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার বিবরণ

গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাগরিয়া বাজারসংলগ্ন এ কে এম মোছলেহ উদ্দিন মাহমুদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। হামলার প্রতিবাদে রাতে সাগরিয়া বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এ কে এম মোছলেহ উদ্দিন মাহমুদ ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফ্ফারের বাবা। কারা তাঁর বাড়িতে হামলা করেছে, তা তিনি নিশ্চিত করতে না পারলেও আবদুল গাফ্ফার হামলার জন্য স্থানীয় এনসিপির নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আবদুল গাফ্ফারের অভিযোগ

নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করা ভিডিও বক্তব্যে আবদুল গাফ্ফার অভিযোগ করেন, ‘গতকাল (বুধবার) তিনি নোয়াখালী-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর কাছে তিন কোটি টাকা দাবি করার ঘটনাটি সমর্থন করায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে এনসিপির কর্মীরা হামলা চালিয়েছে। এর আগে দিনভর (বৃহস্পতিবার) অনলাইনে খারাপ ভাষায় নানা হুমকি দেওয়া হয়। আমি বাড়িতে থাকি না। বাড়িতে থাকেন আমার বৃদ্ধ বাবা-মা। কী দোষ ছিল আমার বাবা-মায়ের?’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর ত্যাগের সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও বর্তমান নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকা দাবি করার তথ্য প্রকাশ করেন গণঅধিকার পরিষদ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। রাশেদ খাঁনের ওই বক্তব্য সমর্থন করেন হাতিয়ার বাসিন্দা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুল গাফ্ফার ওরফে জিসান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হামলার ঘটনা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফ্ফারের সাগরিয়া বাজারসংলগ্ন গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ইটের আঘাতে বাড়ির পাকা ভবনের একটি জানালার কাচ ভেঙে যায়। ভাঙচুরের শব্দে বাড়িতে থাকা আবদুল গাফ্ফারের বৃদ্ধ মা ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বাড়ির লোকজনের চিৎকারে আশপাশের মানুষ এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

এনসিপির বক্তব্য

বাড়িতে হামলার বিষয়ে আবদুল গাফ্ফারের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে এনসিপির হাতিয়া উপজেলা আহ্বায়ক মো. সামছু তিব্রিজ বলেন, ‘এনসিপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ছাত্রনেতা আবদুল গাফ্ফার কীভাবে নিশ্চিত হলেন যে এনসিপির কর্মীরা তাঁদের বাড়িতে হামলা করেছে? আসলে তিনিই ঢাকায় বসে ওই হামলার নাটক সাজিয়েছেন নিজের অপরাধ ঢাকার জন্য।’ এরপরও রাতে সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের অনুরোধে দলীয় নেতাদের নিয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে সহমর্মিতা জানিয়ে এসেছেন বলেও জানান তিনি।

পুলিশের বক্তব্য

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফ্ফারের বাড়িতে হামলার খবর পেয়ে প্রথমে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে তিনি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বাইরে থেকে ছোড়া ঢিলের আঘাতে বাড়ির পাকা ভবনের একটি জানালার কাচ ভেঙে গেছে। তবে কারা ঢিল ছুড়েছে, তা কেউ দেখেননি। তিনি ছাত্রদল নেতা গাফ্ফারের বাবা এ কে এম মোছলেহ উদ্দিন মাহমুদকে ঘটনার বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।