দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি পরিবর্তন করে বাংলাদেশ সরকার সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের জন্য এসএসসি পরীক্ষায় একক জাতীয় প্রশ্নপত্র চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী এএনএম এহসানুল হক মিলন বৃহস্পতিবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই ঘোষণা দেন।
সংস্কারের লক্ষ্য
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো সারা দেশে ন্যায্যতা এবং অভিন্ন শিক্ষার মান নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, 'এক বাংলাদেশে এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষা ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্রে নেওয়া যায় না।'
প্রথমে এসএসসি পরীক্ষায় এই সংস্কার কার্যকর হবে এবং পরে এটি এইচএসসি পরীক্ষায়ও প্রসারিত করা হবে, যা লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর জন্য একটি সমন্বিত পরীক্ষা পদ্ধতি তৈরি করবে।
বর্তমান বৈষম্য
মন্ত্রী স্বীকার করেন যে বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নের মান ভিন্ন, কিছু বোর্ড তুলনামূলক সহজ এবং কিছু কঠিন প্রশ্নপত্র তৈরি করে, যা শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে বৈষম্য সৃষ্টি করে। সরকার মনে করে, একটি সাধারণ প্রশ্নপত্র আরও ন্যায়সঙ্গত মূল্যায়ন ব্যবস্থা তৈরি করবে এবং বাংলাদেশকে ও-লেভেল ও এ-লেভেলের মতো আন্তর্জাতিক পরীক্ষা পদ্ধতির কাছাকাছি নিয়ে যাবে, যেখানে অবস্থান নির্বিশেষে পরীক্ষার্থীরা একই পরীক্ষায় অংশ নেয়।
সামগ্রিক সংস্কার
এই ঘোষণা সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরীক্ষা সংস্কারগুলোর একটি। সরকার একাডেমিক ব্যাঘাত কমানো এবং সেশনজট দূর করার লক্ষ্যে বৃহত্তর পরিবর্তনের জন্য চাপ দিচ্ছে।
সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে এক বছর আগেই পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করেছে। নতুন ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি এবং এইচএসসি পরীক্ষা ৬ জুন শুরু হবে।
সম্প্রতি সমাপ্ত পরীক্ষা
মন্ত্রী আরও বলেন, সম্প্রতি সমাপ্ত এসএসসি পরীক্ষাগুলো সুষ্ঠুভাবে এবং কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ২০ জুলাই প্রকাশের সময়সূচি রয়েছে।
শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, সমন্বিত পরীক্ষা পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে অধিক সামঞ্জস্য নিশ্চিত করবে এবং দেশের পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থায় আস্থা শক্তিশালী করবে।



