একযুগে বাংলা ট্রিবিউন: বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথে দৃঢ় পদক্ষেপ
একযুগে বাংলা ট্রিবিউন: বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রতিশ্রুতি

দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করে একযুগ পেরিয়েছে দেশের অন্যতম অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন। ২০১৪ সালের এই দিনে দেশের অনলাইন সাংবাদিকতায় নতুন কিছু দেওয়ার প্রত্যাশায় যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। একযুগ ধরে এই পথ চলায় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে বাংলা ট্রিবিউন যেমন গুরুত্ব দিয়েছে, তেমনি পাঠকের কাছে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সংবাদ পরিবেশন করেছে এবং এখনও সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির মূলমন্ত্র ‘সঠিক সময় সঠিক খবর’—এরই ধারাবাহিকতা আজও মেনে চলছে। নানা প্রতিকূলতা এবং চ্যালেঞ্জ পেরিয়েও একটি পেশাদার সংবাদমাধ্যম হিসেবে পাঠকের মনে আস্থা ধরে রেখেছে বাংলা ট্রিবিউন।

সঠিক খবরের স্লোগানে অগ্রযাত্রা

‘সঠিক সময়ে সঠিক খবর’ স্লোগানে উজ্জীবিত বাংলা ট্রিবিউন দ্রুত সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি সঠিক তথ্যের চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নেও কাজ করে চলেছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলা ট্রিবিউনের সবচেয়ে বড় শক্তি তার পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীরা। ডিজিটাল গণমাধ্যমের উৎকর্ষতার এই সময়ে বাংলা ট্রিবিউন জন্মলগ্ন থেকেই প্রচলিত অনলাইন পোর্টালের বাইরে নতুন কিছু করতে চেয়েছে। তার দৃষ্টান্তও দেখিয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও ভিন্নধর্মী লেখনীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংবাদমাধ্যমটি পাঠকদের মাঝে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।

প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার

তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশকে সর্বোচ্চ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে চলছে বাংলা ট্রিবিউন। এ জন্য টেক্সট-ভিত্তিক নিয়মিত সংবাদের পাশাপাশি মাল্টিমিডিয়া এবং খবরের পেছনের খবরও পাঠকের জন্য নিয়মিত তুলে ধরছে। ভুল তথ্য এবং অপতথ্যের চ্যালেঞ্জকে বাংলা ট্রিবিউন সবসময় গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। মিস ইনফরমেশনের যুগে সাংবাদিকতা হলো সত্য উদ্ঘাটন এবং পাঠকদের বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করার একটি নিরলস সংগ্রাম।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মিথ্যা খবর মোকাবিলায় ফ্যাক্টচেক

সোশ্যাল মিডিয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির কারণে মিথ্যা খবরের দ্রুত বিস্তার রোধে ফ্যাক্টচেক বা তথ্য যাচাই, বস্তুনিষ্ঠতা ও নৈতিকতার চর্চা এখন পেশাদার সংবাদমাধ্যমের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সঠিক তথ্য তুলে ধরছে বাংলা ট্রিবিউন। কারণ সুস্থ ও সুষ্ঠু সাংবাদিকতায় বাংলা ট্রিবিউন বিশ্বাসী।

এআই যুগে নৈতিকতা

বর্তমান সময়ে এআই’র ব্যবহার যেমন কাজের গতি বাড়িয়েছে, তেমনি কিছু নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে। এআই অনেক সময় বিভ্রান্তিকর বা কাল্পনিক তথ্য তৈরি করতে পারে। সংবাদ তৈরির ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের বিষয়টি গোপন রাখলে তা নৈতিকতা পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হয়। এই জায়গায় বাংলা ট্রিবিউন স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে চলছে।

শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা

বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, ‘অনলাইন পত্রিকা বাংলা ট্রিবিউন একযুগ-পূর্তির পর আজ নতুন বর্ষে পদার্পণে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। বাংলাদেশে দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার মাঝে আপনাদের সাংবাদিকতার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি একযুগ পার করছে জেনে আমি আনন্দিত।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রিন্ট পত্রিকার পাশাপাশি আলাদা করে অনলাইন পত্রিকার মাঝে বাংলা ট্রিবিউন একটি বিশেষ জায়গায় অবস্থান করছে বলে আমি মনে করি। বাংলা ট্রিবিউন-এর নিউজ সবসময় তথ্য সমৃদ্ধ। আমি প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার সাফল্য কামনা করছি।’

বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বাণীতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অনলাইন পত্রিকা ‘বাংলা ট্রিবিউন’ একযুগ পার করে ১৩তম বছরে পদার্পণ করছে জেনে আমি আনন্দিত। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভলগ্নে গণমাধ্যমটির পাঠক, শুভানুধ্যায়ী, সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে দ্রুততম সময়ে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংবাদ প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে অনলাইন সংবাদপত্র। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বাংলা ট্রিবিউনকে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে জরুরি সংবাদটি সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক ও দ্রুততার সঙ্গে পৌঁছে দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলা ট্রিবিউন এ লক্ষ্য অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে প্রত্যাশা করছি। পত্রিকাটির আগামীর পথচলা সহজ ও দায়িত্বশীল হোক। আমি বাংলা ট্রিবিউন-এর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।’

বর্তমান মিসইনফরমেশন-ডিজইনফরমেশনের যুগে অনলাইন সাংবাদিকতা অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে উল্লেখ করে বাংলা ট্রিবিউন-এর প্রকাশক কাজী আনিস আহমেদ বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে যারা ক্লিকের বদলে সঠিক তথ্য জোগাড়ে সচেষ্ট থাকবে, পাঠক পরিশেষে তাদেরই গ্রহণ করবে। এ বছর বাংলা ট্রিবিউন তার একযুগ পার করে নতুন আরেকটি যুগে পদার্পণ করছে। বিগত সময়ে তারা যেভাবে সংবাদমাধ্যম হিসেবে তাদের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা প্রমাণ করেছে, আগামীতেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমি প্রকাশক হিসেবে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হিসেবে জুলফিকার রাসেল বাংলা ট্রিবিউনকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নির্বাহী সম্পাদক উদিসা ইসলাম। তিনি বলেন, ভুল তথ্য এবং অপতথ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলা ট্রিবিউন বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। পাঠকের আস্থা ধরে রাখার পেছনের মূল কারিগর বাংলা ট্রিবিউন-এর পরিশ্রমী কর্মীরা। একযুগ ধরে বাংলা ট্রিবিউন পাঠকের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েও আমরা আমাদের প্রতিশ্রুত মান ধরে রাখতে পেরেছি। এ জন্য বাংলা ট্রিবিউন-এর বর্তমান এবং সাবেক কর্মীরা অবশ্যই ধন্যবাদ প্রাপ্য। কারণ তাদের শ্রম এবং মেধা ছাড়া এই কষ্টসাধ্য কাজ বাস্তবায়ন করা বেশ কঠিন ছিল। একই প্রতিশ্রুতিতে একযুগ পেরিয়ে বাংলা ট্রিবিউন সামনে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে আমি আশাবাদী। একই সঙ্গে এই পথচলায় আমি বাংলা ট্রিবিউন-এর সব পাঠক, শুভানুধ্যায়ী, বিজ্ঞাপনদাতার প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়ে দেওয়া বার্তায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, ‘বাংলা ট্রিবিউন-এর একযুগ-পূর্তি আমাদের সবার জন্য আনন্দবার্তা। নতুন গণমাধ্যম অনেক সম্ভাবনা বহন করে। আবার এই পথে অনেক ফাঁকফোকর খানাখন্দও‌ রয়েছে। বাংলা ট্রিবিউন দেশ ভজনা মানব ভজনায় নিষ্ঠার পরিচয় দিয়ে চলছে, সেটি আমাদের বড় পাওয়া। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে বাংলা ট্রিবিউন তাই আমাদের আশার জায়গা জুগিয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক ও চিরন্তন, এমন প্রত্যাশা পূরণ করে বাংলা ট্রিবিউন-এর আগামীর যাত্রাপথ আনন্দগানে মুখরিত থাকুক, এই শুভকামনা রইলো।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আব্দুন নূর তুষার বলেন, ‘বাংলা ট্রিবিউন-এর একদম শুরুর দিনগুলোতে আমি নিয়মিত লিখতাম। বাংলা ট্রিবিউন-এর সঙ্গে আমার একটা ভালো সম্পর্ক আছে, যে সম্পর্কটি লেখক এবং সংবাদপত্রের সম্পর্ক। তো সেই সম্পর্কটি এখন নিয়মিত নেই। কিন্তু আমি বাংলা ট্রিবিউন-এর যে যাত্রা, সেই যাত্রার একজন সাক্ষী। আমি মনে করি বাংলা ট্রিবিউন অনলাইন সংবাদপত্রের যে বাংলাদেশের জগৎ, সেই জগতে ইতিবাচক অবদান রেখেছে। ১২ বছর পার হয়েছে, আমরা আশা করি বাংলা ট্রিবিউন সামনের দিনে আরও অনেক উৎসব উদযাপন করবে এবং প্রতিবছরই নতুন নতুন কিছু তার সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারবে।’