বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২৬২ জন জাল সনদধারী শিক্ষক-কর্মচারীকে শনাক্ত করেছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। গত সোমবার তাদের নামের তালিকা সংক্রান্ত চিঠি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে।
জাল সনদধারীদের তালিকা ও ব্যবস্থা
তালিকায় থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) বন্ধ, মামলা, বেতন-ভাতা বাবদ নেওয়া অর্থ ফেরতসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের কাছে পাওনা প্রায় ৫০ কোটি টাকা। এর আগে স্কুল-কলেজে কর্মরত ৪৭১ জাল সনদধারীকে শনাক্ত করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত জাল সনদে চাকরি করা শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৪৯।
ডিআইএর চিঠি
ডিআইএর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক কারিগরি ও মাদ্রাসার শনাক্তকৃত জাল/ভুয়া সনদধারী শিক্ষকের নিম্নরূপ তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন, জাল/ভুয়া সনদ এবং জাল সনদ যাচাইপূর্বক সনদ ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রেরিত পত্রসমূহের অনুলিপিসহ সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় কার্যার্থে এসঙ্গে প্রেরণ করা হলো।’
জাল সনদের ধরন
তালিকায় মোট ২৬২ জন শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে ২৫১ জন শিক্ষকের বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সনদ জাল করে চাকরি করছেন বা করছিলেন। এছাড়া বিপিএড, বিএড, গ্রন্থাগার ও অন্যান্য শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ১১ জনের।
অর্থ ফেরত
এই জাল সনদধারীদের কাছ থেকে সরকার প্রায় ৫০ কোটি টাকা ফেরত পাবে। এর মধ্যে এনটিআরসিএর সনদ জালকারীদের কাছ থেকে ৪৮ কোটি টাকার বেশি ফেরত পাওয়া যাবে। আর অন্যান্য জাল সনদধারীদের কাছ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ফেরত পাওয়া যাবে।
ডিআইএ পরিচালকের বক্তব্য
এ বিষয়ে ডিআইএ পরিচালক প্রফেসর এম এম সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে আমরা প্রতিবেদন তৈরি করি। এরপর এ সংক্রান্ত তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা পরবর্তীতে অধিদপ্তরগুলোকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।’
পরবর্তী পদক্ষেপ
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ডিআইএর পাঠানো জাল সনদধারীদের তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিগগিরই মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে পৃথকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।
জাল সনদ শনাক্তকরণ কার্যক্রম
২০১২ সাল থেকে জাল সনদ শনাক্তকরণ কার্যক্রম শুরু করেছে ডিআইএ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ বিষয়ে জোরদার অভিযান চালাচ্ছে শিক্ষা প্রশাসনের পুলিশ খ্যাত সংস্থাটি। এরই ধারাবাহিকতায় স্কুল-কলেজের জাল সনদধারীদের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালের শুরুতে স্কুল-কলেজের ৬৭৮ জন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসার প্রায় ২০০ জন জাল সনদধারীর তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল সংস্থাটি। সেসময় মন্ত্রণালয় জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে মামলাসহ একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছিল। তবে মন্ত্রণালয়ের ঐ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। আদালতে মামলা চলমান থাকায় অনেক জাল সনদধারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি সরকার।



