মৌমাছির রানি হওয়ার রহস্য: খাবার নয়, পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ
মৌমাছির রানি হওয়ার রহস্য: পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ

একটি মৌমাছি কীভাবে রানি হয়ে ওঠে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন যে কেবল ‘রয়্যাল জেলি’ খাওয়াই এর প্রধান চাবিকাঠি। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু খাবার নয়, রানির বড় হয়ে ওঠার পরিবেশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা কর্মী মৌমাছিদের এমন একটি বিশেষ গ্রুপ শনাক্ত করেছেন, যারা মৌচাকের ভেতরে রানির জন্য মোমের বিশেষ আবাসস্থল বা ঘর তৈরিতে বিশেষভাবে পারদর্শী।

কর্মী মৌমাছির বিশেষ দল

মৌচাক সচল রাখতে কর্মী মৌমাছিরা খাবার সংগ্রহ করা, বাচ্চাদের লালন-পালন এবং রানি মৌমাছির যত্ন নেওয়াসহ অসংখ্য কাজ করে থাকে। নেচার সাময়িকীতে বুধবার প্রকাশিত এক নতুন গবেষণায় জানা গেছে, রানির ঘর তৈরির দায়িত্বে থাকা এই মৌমাছিদের শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। এই বাড়তি তাপ তাদের শরীর থেকে নিঃসৃত বিশেষ রাসায়নিককে মোমের সঙ্গে গলাতে ও মেশাতে সাহায্য করে।

গবেষকের প্রতিক্রিয়া

এই গবেষণায় যুক্ত না থাকা নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটির মৌমাছি গবেষক জুলিয়া বাউশার বলেন, কেউ কখনও ভাবেনি যে রানির এই বিশেষ ঘরগুলো তৈরির জন্য কর্মীদের এমন একটি সুনির্দিষ্ট দল থাকতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘরের গঠন ও জিনগত বৈশিষ্ট্য

গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন শনাক্ত হওয়া এই মৌমাছিগুলো বয়সে তরুণ এবং এদের জিনগত বৈশিষ্ট্য এই বিশেষ কাজের জন্য অনন্যভাবে উপযুক্ত। এদের তৈরি চীনাবাদামের আকৃতির ঘরটির গঠনও ছিল আলাদা। সাধারণ কর্মী মৌমাছিদের ঘরের তুলনায় রানির ঘরের মোম ছিল অনেক নরম, তবে এর গলনাঙ্ক ছিল বেশ বেশি।

পরীক্ষার ফলাফল

এই তত্ত্বটি পরীক্ষা করতে গবেষকেরা রানির মোম এবং সাধারণ কর্মীর মোম দিয়ে তৈরি আলাদা পাত্রে রানি মৌমাছির বাচ্চাদের বড় করেন। দেখা গেছে, রয়্যাল জেলি খাওয়ার পরও যেসব রানি কর্মী মৌমাছির মোমে বড় হয়েছিল, আকারে তারা ছোট ছিল এবং তাদের বেঁচে থাকার হারও ছিল কম।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গবেষণার তাৎপর্য

গবেষণার সহ-লেখক ও চাইনিজ অ্যাকাডেমি অব অ্যাগ্রিকালচারাল সায়েন্সেস-এর বিজ্ঞানী কাই ওয়াং এক বলেন, শতাব্দী ধরে আমরা বিশ্বাস করে এসেছি যে রানি মৌমাছি তৈরির একমাত্র নিয়ম হলো ‘তুমি যা খাও, তুমি তা-ই’। আমাদের এই গবেষণা সেই নিয়মটি নতুন করে লিখে বলছে, ‘তুমি যেখানে বাস করো, তুমি তা-ই’।

ভবিষ্যৎ গবেষণার প্রয়োজন

এই আবিষ্কার মৌচাকের ভেতরের এক দুর্লভ রহস্য উন্মোচন করলেও এখনও অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে। ব্লুবেরি, স্কোয়াশ, তরমুজ ও বাদামের মতো ফসলের পরাগায়ন ও বেঁচে থাকা নিশ্চিত করে এই মৌমাছিরা। তাই রানির ঘর তৈরি করা মৌমাছিদের গোপন জীবন এবং একটি মৌচাকের প্রধান রানি গড়ে ওঠার পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণগুলো জানতে আরও গবেষণার প্রয়োজন।

গবেষক বাউশার বলেন, আমি এই মোমের সুনির্দিষ্ট রাসায়নিক গঠন এবং কোন উপাদানগুলো রানির বৃদ্ধিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে, সে সম্পর্কে আরও জানতে আগ্রহী।

সূত্র: এপি