জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অপারেশন সার্চলাইট ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনা নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে সোমবার অপারেশন সার্চলাইট ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা: ইতিহাসের প্রামাণ্য আখ্যানের সন্ধানে শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, যিনি মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্বের বহুমাত্রিক বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খানের বক্তব্য
অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের অপারেশন সার্চলাইট ছিল পাকিস্তানি সামরিক জান্তার একটি সুপরিকল্পিত দমন-পীড়ন অভিযান, যা বাঙালির সশস্ত্র প্রতিরোধ ও মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছিল। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বুঝতে রাজনৈতিক-ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান এবং সমকালীন দলিল ব্যবহারের গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন।
তিনি আরও বলেন, এই হত্যাযজ্ঞ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে গণহত্যার শামিল হলেও এর পূর্ণাঙ্গ দলিলীকরণ এখনো জরুরি। সত্য অনুসন্ধানের জন্য তিনি নতুন প্রশ্ন তোলা এবং তথ্যনির্ভর গবেষণার আহ্বান জানান, যা ইতিহাসের প্রামাণ্য আখ্যান নির্মাণে সহায়ক হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্দীনের মন্তব্য
সেমিনারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্দীন অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খানের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতার ৫৬ বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ও নির্ভুল ইতিহাস এখনো রচিত হয়নি, যা তিনি জাতির জন্য একটি বড় কলঙ্ক হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এখনো মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সঠিক সংখ্যা কিংবা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দিতে তিনি ইতিহাস বিকৃতির প্রবণতা থেকে মুক্তির আহ্বান জানান এবং সঠিক গবেষণার মাধ্যমে ইতিহাস সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সেমিনারের অন্যান্য দিক
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক ইমরানুল হকের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক মো. আনিসুর রহমান। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং গবেষকেরা অংশগ্রহণ করেন, যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসচর্চায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই সেমিনারের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্বের ঘটনাবলি নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ এবং সঠিক ইতিহাস রচনার প্রয়োজনীয়তা আরও একবার প্রমাণিত হয়েছে, যা জাতীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।



