নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় দীর্ঘ ১১০ বছরের পুরোনো স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সড়ক পথের পাশাপাশি এবার রেল যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় উপজেলাজুড়ে বইছে আনন্দের আমেজ। স্থানীয়রা জানান, ঈদের আগেই যেন ঈদের খুশি নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।
ডেপুটি স্পিকারের পরিদর্শন
এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১৩ মে) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জারিয়া-ঝাঞ্জাইল থেকে দুর্গাপুর উপজেলা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পরিদর্শনে আসছেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকবেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন
নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির মধ্যে রেললাইন সম্প্রসারণও ছিল অন্যতম। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে দুর্গাপুরের সর্বত্র।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
স্থানীয়দের মতে, জারিয়া-ঝাঞ্জাইল থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন বাস্তবায়ন শুধু একটি যোগাযোগ প্রকল্প নয়; এটি পুরো নেত্রকোনা অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার, পর্যটন বিকাশ এবং শিল্পায়নের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। এ উদ্যোগের জন্য তারা ডেপুটি স্পিকারকে ধন্যবাদ জানান।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
প্রবীণ সংস্কৃতিজন বীরেশ্বর চক্রবর্তী বলেন, “মৃত্যুর আগে দুর্গাপুরে রেললাইন সম্প্রসারণের উদ্যোগ দেখে যেতে পারব- এটা কখনো কল্পনা করিনি। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার আমূল পরিবর্তন ঘটবে।”
আদিবাসী নেতা অঞ্জন চিছাম বলেন, “দুর্গাপুরে রেললাইন সম্প্রসারণের খবর শুনে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এটি বাস্তবায়িত হলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সম্প্রসারণের কাজটি দেখে যেতে পারলে মরেও শান্তি পাব।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ সাদাত বলেন, “দুর্গাপুর উপজেলায় যোগদানের মাত্র তিন দিনের মধ্যেই এমন একটি সুসংবাদ পেলাম। রেললাইন চালু হলে দুর্গাপুর নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে উঠবে এবং এখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।”



