মানিকগঞ্জে মাছ চুরির অভিযোগে আটক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
মানিকগঞ্জে মাছ চুরির অভিযোগে আটক যুবকের লাশ উদ্ধার

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার একটি বাজারের ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয় থেকে বুধবার সন্ধ্যায় এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে মাছ চুরির অভিযোগে কৃষ্ণ রাজবংশী (৩৫) নামের ওই যুবককে আটকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃত কৃষ্ণ রাজবংশীর বাড়ি সদর উপজেলার বান্দুটিয়া মাঝিপাড়া এলাকায়।

ঘটনার বিবরণ

সদর থানার পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সকালে সদর উপজেলার তরা মাছের আড়ত থেকে মাছ চুরির অভিযোগে কৃষ্ণ রাজবংশীসহ দুজনকে আটক করে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির লোকজন। পরে তাঁদের মধ্যে একজনকে বাজার ব্যবস্থাপনা সভাপতি মো. ইব্রাহিমের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হলেও কৃষ্ণ রাজবংশীকে মারধর করে কমিটির কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়। সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে কোনো একসময় তিনি কার্যালয়ের ভেতরে ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।

স্থানীয়দের বক্তব্য

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় দুই ব্যক্তি বলেন, দুপুরে কমিটির লোকজন তালা খুলে ভেতরে গিয়ে ওই যুবককে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর কমিটির লোকজন হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে লাশ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির লোকজন চলে যান। পরে খবর পেয়ে বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কমিটির বক্তব্য

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাত সাড়ে আটটার দিকে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. ইব্রাহিমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি ধরেননি। তবে কমিটির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন বলেন, তিনি শুনেছিলেন মাছ চুরির অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে। পরে অভিভাবকেরা নিজেদের জিম্মায় তাঁদের নিয়ে যাবেন বলে তিনি শুনেছেন। একজনকে ছেড়েও দেওয়া হয়। অপরজনের (কৃষ্ণ) অভিভাবক না আসায় আটকে রাখা হয়েছিল। পরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে তিনি শুনেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের পদক্ষেপ

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম হোসেন বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওসি বলেন, চোর সন্দেহ বা চুরির অভিযোগে আটকে রেখে পুলিশকে জানানো বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির লোকজনের দায়িত্ব। কিন্তু তা না করে আটকে রাখা হয়। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।