গাজীপুরের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) নতুন মহাপরিচালকের (ডিজি) নিয়োগ নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা বিক্ষোভ করছেন এবং প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, নবনিযুক্ত ডিজিকে স্বাগত জানাতে অবস্থান নিয়েছে শ্রমিক পক্ষ ও বহিরাগত একটি পক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বিক্ষোভের কারণ
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী সমিতির নির্বাচিত সহ-সভাপতি ড. এবিএম আনোয়ার উদ্দিন বলেন, গত এক মাস আগে ডিজি পদ শূন্য হয়। গতকাল যাকে ডিজি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তিনি বিগত সরকারের আমলের সুবিধাভোগী ও দোসর। কুমিল্লায় দায়িত্বকালে তিনি দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন বলে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। এছাড়া ফ্যাসিস্ট আমলে শোক দিবস পালনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
বিজ্ঞানী সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ড. হাবিবুর রহমান মুকুল বলেন, তার সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। তিনি এই প্রতিষ্ঠানেই কাজ করতেন, কিন্তু সমস্যা হলো তিনি ফ্যাসিস্টের দোসর ছিলেন, যা তদন্ত রিপোর্টে প্রমাণিত। তিনি আওয়ামী লীগ আমলে সিনিয়রদের ডিঙ্গিয়ে ক্ষমতা খাটিয়ে পদ বাগিয়ে নিয়েছিলেন। তাকে ডিজি নিয়োগ দেওয়ার খবর শুনে সর্বস্তরের বিজ্ঞানী ও শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছেন।
দুই পক্ষের অবস্থান
বিক্ষোভরত বিজ্ঞানীরা জানান, সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে যাকে ডিজি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তিনি বিগত সরকারের সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এমন একজন ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আনা হলে গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হবে। এ নিয়োগ বাতিল না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং ডিজিকে ইনস্টিটিউটে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, নতুন ডিজি আমিনুল ইসলামের পক্ষে বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, আমরা গত মাসের বেতন পাইনি। এক মাস ধরে ডিজি ছিল না। এখন মন্ত্রণালয় থেকে ডিজি নিয়োগ দেওয়ায় আমরা তাকে স্বাগত জানাতে অবস্থান নিয়েছি। বিপরীত পক্ষ যারা স্লোগান দিচ্ছে, তারা দুর্নীতিবাজ।
পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা
সোমবার সকাল থেকে দুটি পক্ষ ব্যানার ও লোকবল নিয়ে ডিজি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। দুপুর সাড়ে ১২টায় নবনিযুক্ত ডিজি ইনস্টিটিউটে প্রবেশ করলে ব্যাপক উত্তেজনা শুরু হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হিমশিম খেতে দেখা গেছে।
প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় রয়েছে। এ নিয়োগ নিয়ে বিরোধ অব্যাহত থাকায় পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর।



