টানা বৃষ্টি আর পর্যাপ্ত বাসের অভাবে গাজীপুরের দুই মহাসড়কে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ঈদমুখো যাত্রীদের। ঈদের দীর্ঘ ছুটি পেয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে গ্রামের পথে ছুটছেন ঘরমুখো মানুষ। তবে টানা বৃষ্টিতে গাজীপুরের দুই মহাসড়কে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। পর্যাপ্ত বাস না পেয়ে অনেক যাত্রী খোলা ট্রাক ও পিকআপে করে বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন। এতে বৃষ্টি ও ভোগান্তির মধ্যে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।
বৃষ্টির কারণে ভোগান্তি আরও বেড়েছে
মঙ্গলবার সকালে বৃষ্টি না থাকলেও বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হয় তুমুল বৃষ্টি। এই বৃষ্টিতেই শুরু হয় ভোগান্তি। এরমধ্যে দেখা দিয়েছে দীর্ঘ যানজট। অনেক যাত্রী এখনো মহাসড়কের পাশে পরিবহণের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। বৃষ্টিতে অনেকেই ভিজে গিয়েছেন। তবে এদের মধ্যে শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠ যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।
শিল্পকারখানার ছুটি শুরু
সোমবার থেকে শিল্পাঞ্চল গাজীপুরের শিল্পকারখানা ছুটি শুরু হয়েছে। ওই দিন বিকালে মহাসড়কে যাত্রীদের ঢল নামে, যাত্রীদের সেই ঢল এখন পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে রাতের তুমুল বৃষ্টিতে ভোগান্তি আরও কয়েকগুণ বেড়েছে। কারখানা সূত্রে জানা যায়, শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে ছোটবড় প্রায় ৫ হাজার শিল্প কারখানা রয়েছে। এসব কারখানার অর্ধেক ছুটি হয়েছে। বাকি অর্ধেক যে কারখানাগুলো রয়েছে সেগুলো মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে ছুটি হয়ে যাবে। ধারণা করা হচ্ছে- দুপুরের পর যাত্রীদের চাপ মহাসড়কে আরও বাড়বে।
যাত্রীদের ভাষ্য
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে কথা হয় ফেরদৌস হোসেন নামে এক যাত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, 'আমরা গাড়ি না পেয়ে চৌরাস্তা হতে ট্রাকে উঠেছিলাম। বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নেমে গিয়েছি কিন্তু অনেক যাত্রী ভিজে ভিজেই যাচ্ছে। বৃষ্টির কারণে এবার যানজট আরও বেশি হবে।'
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ময়মনসিংহগামী যাত্রী আতিকুল ইসলাম ও সখিনা বলেন, 'গার্মেন্টস ছুটি হয়ে গেছে। পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি। সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছি, কিন্তু বৃষ্টি থামেনি। তাই বাধ্য হয়েই বৃষ্টির মধ্যেই যাত্রা শুরু করেছি।' তারা আরও বলেন, 'বছরে আমরা বড় ছুটি বলতে শুধু দুই ঈদেই পাই। এই সময়টাতে পরিবারের সঙ্গে কিছুদিন একসঙ্গে থাকা যায়। তাই কষ্ট হলেও বৃষ্টিতে ভিজেই পরিবারের কাছে ফিরছি, প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দের সময় কাটাতে চাই।'
পুলিশের কার্যক্রম
নাওজোড় কোনাবাড়ী হাইওয়ে থানার ওসি সওগাতুল আলম বলেন, 'রাতেও বৃষ্টি হয়েছে। সকালে স্বাভাবিক ছিল কিন্তু আবারও বৃষ্টি নামায় ভোগান্তি বেড়েছে ঘরমুখো মানুষের। যানজট ও ভোগান্তি কমাতে কাজ করছে হাইওয়ে জেলা ও থানাসহ সব পুলিশ।'
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, 'গাজীপুরে প্রায় পাঁচ হাজার ছোট-বড় শিল্পকারখানা রয়েছে। সোমবার দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন কারখানায় ছুটি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবারের মধ্যে অধিকাংশ গার্মেন্টস কারখানা ছুটি হয়ে গেছে। এছাড়া রাত থেকে বৃষ্টি হওয়ায় মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে ধীরগতির কারণে কিছুটা যানজট দেখা দিয়েছে। তবে ছুটি ধাপে ধাপে দেওয়ায় এবং উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ সড়কের উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ায় এবার যানজট তুলনামূলক কম রয়েছে।'



