টাঙ্গাইল শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রবল ঝড়-বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ গ্রিডের দুটি কয়েল পুড়ে ১৩২ কেভির সঞ্চালন লাইন বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া অন্যান্য কারণে ১৪ ঘণ্টায়ও বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হয়নি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও বাসাবাড়ির লোকজন। দুর্ভোগ লাঘবে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত
স্থানীয়রা জানান, সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টা থেকে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বেগে ঝড়, বজ্রপাতসহ শিলাবৃষ্টি হয়। এতে কোথাও শহরের বৈল্লা অফিসে বিদ্যুৎ গ্রিডের দুটি কয়েল পুড়ে যায়, কোথাও বড় বড় গাছ পড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়। ফলে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সাড়ে ১৪ ঘণ্টায়ও বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হয়নি। এতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়াসহ ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।
জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব
বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে ফ্রিজের খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়েছে। বিভিন্ন শিল্প কলকারখানার মতো বাসাবাড়ির গৃহস্থালীর কাজেও বেগ পোহাতে হয়েছে। পশ্চিম আকুরটাকুরপাড়া এলাকার বাসিন্দা রুস্তম আলী বলেন, 'রাত থেকে বিদ্যুৎ আসেনি। সকালে পানির অভাবে গোসলও করতে পারিনি। ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে গরমে কষ্ট হচ্ছে।'
একই এলাকার ব্যবসায়ী উজ্জল মিয়া বলেন, 'বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। স্বাভাবিক বিক্রিও হচ্ছে না।' কাগমারার বাসিন্দা শাকিল আহমেদ বলেন, 'বিদ্যুতের অভাবে মোবাইলের স্বাভাবিক নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে না। ফ্রিজের মাছ নষ্ট হচ্ছে।' যুগনি গ্রামের সুজন মিয়া বলেন, 'মোবাইল চার্জ দিতে না পারায় ফোন বন্ধ হয়ে রয়েছে। বিদ্যুতের অভাবে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।'
দ্রুত সমাধানের আশ্বাস
তবে দ্রুতই বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন পিডিপির নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতের কাজ চলছে। অতি দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।'



