সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধির রিপোর্ট: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ উপজেলার লাঙ্গলবন্দ সেতুর সংস্কার কাজ ধীরগতিতে চলায় সোমবার (১৮ মে) সকাল থেকে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজট লাঙ্গলবন্দ সেতু এলাকা থেকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার বিস্তৃত হয়।
ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী
দিনভর এই যানজটে আটকা পড়ে হাজারও যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছতে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটেই রওনা হন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নারী, শিশু ও অসুস্থ যাত্রীরা।
সেতুর জরাজীর্ণ অবস্থা
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লাঙ্গলবন্দ সেতু দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। গত প্রায় চার বছর ধরে সেতুটির বিভিন্ন অংশের ঢালাই ভেঙে গিয়ে এটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ একাধিকবার সংস্কার করলেও সম্প্রতি আবারও সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সোমবার সকাল থেকে সওজ কর্তৃপক্ষ সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ঢালাই কাজ শুরু করে। কাজের সুবিধার্থে ঢাকামুখী লেনের একটি বড় অংশ বন্ধ রেখে এক লেন দিয়ে যান চলাচল করানো হয়। এতে মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য
ঢাকাগামী ট্রাকচালক ইমরান মিয়া বলেন, সকাল ৯টার দিকে দাউদকান্দি সেতু পার হওয়ার পর থেকেই যানজটে আটকে পড়ি। প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর লাঙ্গলবন্দ সেতু পার হতে পেরেছি। এতে চরম ভোগান্তি হয়েছে।
মেঘনা টোলপ্লাজা এলাকায় আটকে থাকা প্রাইভেটকার চালক মো. ইয়াছিন মোল্লা বলেন, প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করে মেঘনা সেতু পার হয়েছি। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এই পথ পাড়ি দিতে মাত্র আট থেকে দশ মিনিট লাগে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি শামীম শেখ বলেন, লাঙ্গলবন্দ সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ঢালাই কাজ চলমান থাকায় সকাল থেকে ঢাকামুখী লেনে যানজট সৃষ্টি হয়। বর্তমানে এক লেন দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। আজকের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে লাঙ্গলবন্দ সেতুর সংস্কার কাজের কারণে কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কার কাজ শেষ হলে যানজটের সমস্যা সমাধান হবে।



